খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি এখন বৈচিত্র্য। নতুন বলে শুরু করা হোক বা ডেথ বোলিং, দলের কাছে যথেষ্ট প্রতিভা আছে। শুরুর বোলিংয়ে শফীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ, এবং শেষের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের মত বিশ্বমানের বোলার রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল মাঝের ওভারের নিয়ন্ত্রণ। ইবাদত হোসেন কিছুটা স্থিতি এনেছেন, কিন্তু ২০২৩ সালে চোটের কারণে তার বাইরে চলে যাওয়ার পর এই অবস্থান পূর্ণ করার মতো কোনো বোলার পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক পাকিস্তান সিরিজে নাহিদ রোহানের অভিষেক এই উদ্বেগ কমিয়েছে। তিনি মোস্তাফিজ ও তাসকিনের পরে মাঠে গতি ও বাউন্সে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন। সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে নাহিদ ও তানজিদ হাসান যৌথভাবে ৮ উইকেট শিকার করে সিরিজ সেরা হয়েছেন।
বাংলাদেশ পেসারদের সাম্প্রতিক চার বছরের পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো। ওয়ানডেতে এই সময়ে ১০ জন পেসার খেলেছেন এবং ৬৭ ম্যাচে তারা ওভারপ্রতি গড়ে ৫.৪৬ রান দিয়েছেন। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের এই সময়কালে ওভারপ্রতি রান কম।
| পরিসংখ্যান | মান |
|---|---|
| পেসার সংখ্যা (ওয়ানডে, ৪ বছর) | ১০ |
| ম্যাচ সংখ্যা | ৬৭ |
| ওভারপ্রতি রান | ৫.৪৬ |
| তুলনামূলক উন্নত দেশ | অস্ট্রেলিয়া |
মাঠের বাইরে পেসারদের মধ্যে সমন্বয় এবং বোঝাপড়া তাদের শক্তি বাড়িয়েছে। তবে সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বাংলাদেশ এ বছর আরও ১৯টি ওয়ানডে খেলে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। এছাড়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ম্যাচ খেলবে—অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি করে। এই সিরিজগুলোতে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সময় জুটি ভাঙার দায়িত্ব পেসারদের উপরই থাকবে।
সাবেক পেসার ও বিসিবির পেস বোলিং কোচ তারেক আজিজ বলছেন, “পেসারদের সব ধরনের উইকেটে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাদের ভূমিকা স্পষ্টভাবে জানানো এবং প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ চিহ্নিত করেছেন: টেকনিক্যাল উন্নতি, ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত, মানসিক দৃঢ়তা এবং শারীরিক সচেতনতা।
মিরপুরের স্পোর্টিং উইকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা হয়, ভবিষ্যতেও ঘরের মাঠে এমন উইকেটে খেলার পরিকল্পনা বিসিবির। তবে দেশের বাইরে সিরিজগুলোতে এ দেশের বোলারদের মূল চ্যালেঞ্জ—যেমন ভারতের ভিন্ন উইকেট ও দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্স—কে মোকাবিলা করা।
ফিটনেস নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ। বিসিবি পেসারদের কাজের চাপ মনিটরিং করছে এবং কোচরা ডেটা সংরক্ষণ করছেন। জাতীয় দলের সাবেক পেসার নাজমুল হোসেন বলেন, “ম্যানেজমেন্ট পরামর্শ দিবে, কিন্তু খেলোয়াড়কেও নিজেদের শরীর সচেতন থাকতে হবে। সচেতন না হলে প্রভাব খেলোয়াড়ের ওপরই পড়বে।”
সাবেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার মনে করেন, পেসারদের উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এখন বাংলাদেশের বড় শক্তি। তবে তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, বড় স্কোয়াড তৈরি করতে হবে যাতে চোটের ঝুঁকি কমে এবং ধারাবাহিক সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশের পেসাররা এখন মাঠের বাইরে ও ভিতরে সঠিক প্রস্তুতি ও ফিটনেস বজায় রাখলে আগামী আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।