খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে পা রেখেছিল ২৫ বছর আগে। লক্ষ্য ছিল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর কাতারে পৌঁছানো। কিন্তু রজতজয়ন্তীর এই প্রান্তে এসে প্রশ্ন জাগে—বাস্তবতা এখন কেমন? সাবেক অধিনায়কেরা ফিরে দেখছেন অতীত, বিশ্লেষণ করছেন বর্তমান এবং ভাবছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান বলেন, “আমরা যখন প্রথম টেস্ট খেলেছিলাম, স্বপ্ন দেখেছিলাম সেরা চার দলের একটি হবো। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার সময় আমাদের নিজস্ব মাঠ ছিল না, অনুশীলনের উপযুক্ত সুযোগও ছিল না। এখন মাঠ আছে, সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে, খেলোয়াড়েরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী, কিন্তু আমরা এখনো সেই কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।”
তিনি আরও বলেন, “১০ থেকে ১৫ বছর আগে কম সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সাকিব আল হাসানের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় উঠে এসেছে। কিন্তু এখন সুযোগ বেশি, মনোভাবের ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সমস্যা হলো—ওরা খুব দ্রুত সন্তুষ্ট হয়ে যায়, আবার অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়ে।”
অন্য সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ বলেন, “ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উন্নতির সুযোগ কম। কিন্তু বাংলাদেশের সামনে ছিল অনেক সম্ভাবনা। ভুল পরিকল্পনা, অযোগ্য মানুষ আর দুর্বল সিস্টেমের কারণে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি, খেলাধুলাতেও স্থবিরতা এসেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি এমন যে, এখানে চাইলেও কেউ বিরাট কোহলি হতে পারবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের কাছে মিরপুরই সব। কিন্তু ভারতের রায়পুরের মতো শহরেও সুযোগ-সুবিধা আমাদের চেয়ে ভালো। পরিকল্পনা ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই বাংলাদেশি ক্রিকেট এগোতে পারেনি।”
হাবিবুল বাশার বলেন, “২৫ বছর পরও টেস্ট দলে ধারাবাহিকতা নেই। ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে শেখেনি। কেউ টেস্ট খেলা শুরু করলেই ঘরোয়া ক্রিকেটে তাকে দেখা যায় না। অথচ মানসিক ফিটনেস তৈরি হয় ঘরোয়া ক্রিকেটেই।”
তিনি আরও বলেন, “আধুনিক ক্রিকেটে সাদা বলে পরিশ্রম কম, অর্থ বেশি—তাই সবাই সেই দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু কোচদের দায়িত্ব খেলোয়াড়দের বোঝানো, উন্নতির জন্য লাল বলের ক্রিকেটই আসল পথ। বড় ইনিংস খেলতে গেলে সহজ ও কঠিন সময় দুটোই আসে। এই ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”
খবরওয়ালা/এসজে