খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা – ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতি সহায়তা আরও সহজ ও কার্যকর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঋণ পুনঃতফসিল বা এক্সিট সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টে আংশিক পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনবোধ অনুযায়ী গ্রাহককে নির্ধারিত ডাউন পেমেন্টের মাত্র ৫০ শতাংশ পরিশোধের পর আবেদন করার সুযোগ দিতে পারবে। বাকি ৫০ শতাংশ পরিশোধের সময়সীমা কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে ধার্য করা হয়েছে।
এছাড়া, যেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতোমধ্যে নীতি সহায়তা অনুমোদিত হয়েছে কিন্তু যৌক্তিক কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি, সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান পূর্বনির্ধারিত সময়সীমার অতিরিক্ত তিন মাস সময় বাড়াতে পারবে।
সুদ মওকুফ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদকে, যারা বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ব্যাংকার–গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীতি শিল্প ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি নতুন শুরু হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে কৃষি, উৎপাদন, পরিবহন ও খুচরা খাতের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এই সহায়তার মাধ্যমে পুনরায় সচল হতে পারবে।
নিচের টেবিলে সহজলভ্য নীতি সংক্রান্ত প্রধান সুবিধাসমূহ সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| সুবিধার ধরন | বিস্তারিত | সময়সীমা / শর্ত |
|---|---|---|
| ডাউন পেমেন্ট আংশিক পরিশোধ | গ্রাহক ৫০% পরিশোধ করে আবেদন করতে পারবে | বাকি ৫০% পরিশোধ পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে |
| নীতি বাস্তবায়নের সময়সীমা বৃদ্ধি | পূর্বনির্ধারিত সময়সীমার অতিরিক্ত ৩ মাস | যৌক্তিক কারণে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে |
| সুদ মওকুফ সিদ্ধান্ত | সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে | বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় |
বিশেষজ্ঞদের মতামত:
“এই নতুন নীতি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের পথ খুলেছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে। এছাড়া, গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যে সম্পর্কও আরও দৃঢ় হবে,” বলেন ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে সহায়তা করবে।