২০২৪ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও ফাইনালে উঠে বাংলাদেশের চোখ পুনরায় শিরোপা জিতে জাতীয় গৌরব বাড়ানোর দিকে। আগামীকাল মালদ্বীপের মালে অবস্থিত জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত ৯টায় শুরু হবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফাইনাল। বাংলাদেশ দলের সাফল্য এবং এ প্রতিযোগিতার উত্তেজনা দেশের ভক্তদের পাশাপাশি প্রবাসী ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও যথেষ্ট উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।
মালদ্বীপে বসবাসরত অসংখ্য বাংলাদেশি প্রবাসী ইতিমধ্যেই স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। তারা শুধু দেশের হয়ে খেলা দেখতে নয়, দলের প্রতি সমর্থন জানাতেও আগ্রহী। যদিও স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা সীমিত, তবুও বাংলাদেশি প্রবাসীদের উপস্থিতি অত্যাধিক। ফলে টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছেছে। খবর অনুযায়ী, আজ রাতেও মালেতে টিকিট প্রত্যাশীরা রাস্তায় অপেক্ষা করছেন।
গ্রুপ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও ভারত একই গ্রুপে খেলেছিল। সেই লড়াই ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। যদিও সেমিফাইনালে উভয় দলই ইতিমধ্যেই নিশ্চিত ছিল, তবুও ফাইনাল খেলায় উত্তেজনা সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী নক আউট পর্বে ম্যাচ ড্র থাকলে খেলা সরাসরি টাইব্রেকার বা পেনাল্টি শুট-আউটে যাবে। গ্রুপ পর্বের ড্র থাকায় আগামীকাল টাইব্রেকারের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্স বলেছেন, “একজন ইংরেজ হিসেবে পেনাল্টি শুট-আউট থেকে দূরে থাকাই ভালো। ১৯৯০ বিশ্বকাপ, ১৯৯৬ ইউরো এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপের উদাহরণ সবই দেখায় পেনাল্টি কখনও সহজ নয়। আমরা চাই ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচটি শেষ হোক।”
ফাইনালের আগে ভারতকে সমীহ করে কোচ কক্স বলেন, “আমরা ভারতের মতো দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। তারা চমৎকার খেলছে এবং তাদের কোচিং স্টাফও প্রশংসনীয়। তবে আমাদের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফও সমানভাবে প্রস্তুত। ভারত বড় দল, কিন্তু আমরাও কম নই।”
বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথের ঐতিহ্যও তিনি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, “বাংলাদেশ-ভারত, বাংলাদেশ-পাকিস্তান বা বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা—এ ধরনের ম্যাচে সবসময় আলাদা উত্তেজনা থাকে। যেমন ইংল্যান্ডে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। কাছের প্রতিপক্ষকে হারানোর তাড়না সবসময়ই বেশি।”
অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, “ভারতের বিপক্ষে খেলা মানেই ভেতরে আলাদা উত্তেজনা কাজ করে। আমরা তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি। মাঠে নামলে সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। এবারও সেটাই করব এবং ভালো কিছু আশা করি।”
নিচে ম্যাচ এবং সমর্থন সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| টুর্নামেন্ট |
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ |
| ফাইনাল দল |
বাংলাদেশ vs ভারত |
| তারিখ ও সময় |
৫ এপ্রিল ২০২৬, রাত ৯টা |
| স্থান |
জাতীয় স্টেডিয়াম, মালদ্বীপ, মালেতে |
| বাংলাদেশি প্রবাসী সমর্থন |
ব্যাপক, স্টেডিয়ামের আসনের চেয়ে বেশি চাহিদা |
| পূর্ববর্তী গ্রুপ ম্যাচ |
বাংলাদেশ-ভারত: ১-১ গোলে ড্র |
| বাংলাদেশ কোচ |
মার্ক কক্স (ব্রিটিশ) |
| অধিনায়ক |
মিঠু চৌধুরী |
| প্রধান লক্ষ্য |
শিরোপা জেতা, দেশের জন্য গৌরব বৃদ্ধি |
সবমিলিয়ে, ফাইনালের ম্যাচ শুধু খেলার উত্তেজনা নয়, বাংলাদেশি প্রবাসীদের মিলনমেলার মতো একটি অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠছে। মাঠে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, কোচিং স্ট্রাটেজি এবং ভক্তদের সমর্থন মিলিয়ে এই ফাইনাল হবে ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই।