খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বাংলাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন—
‘আমরা প্রত্যেক বাংলাভাষীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্তা ও দেশছাড়া করতে দেব না। এই ধরনের কোনও চেষ্টা হলে আমরা তার জবাব দেব।’
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে জানানো হয়েছে, বুধবার ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বিখ্যাত চলচ্চিত্র দ্য গডফাদার–এর সংলাপের সঙ্গে মিল রেখে তিনি রাজ্যের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন—
‘অন্য নথি ছুড়ে ফেলুন, আধার তুলে নিন।’
আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকার সম্ভাব্য সংশোধন প্রসঙ্গে মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি আসলে এর আড়ালে বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) চালুর চেষ্টা করছে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী আরও বলেন—
‘কেউ যদি জরিপ করতে আসে, কখনোই আপনার তথ্য দেবেন না। তারা আপনার বিস্তারিত তথ্য নেবে এবং নাম কেটে দেবে। আপনার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখুন, সেখানে নাম আছে কি না। আধার কার্ড রাখুন… এটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’
মমতার দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় ৫০০টি দল মোতায়েন করেছে, যাদের লক্ষ্য নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারের নাম কেটে দেওয়া।
তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপিকে ‘ললিপপ সরকার’ বলে উল্লেখ করে মমতা জানান—
‘কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বিডিও ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের চাকরি কেড়ে নেওয়া কিংবা কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আসে এবং যায়… কিন্তু রাজ্য সরকার থেকে যায়।’
তিনি আরও যোগ করেন—
‘আমি নির্বাচন কমিশনকে সম্মান করি। কিন্তু বড়রা যদি কোনও রাজনৈতিক দলের ললিপপ খায়, সেটা ঠিক নয়। আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কারও ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেব না।’
মমতা বলেন—
‘আপনি মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। গরিব মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ বলে নির্যাতন করছেন। কিন্তু গরিবরা আমার হৃদয়ে আছেন। আমি জাতপাত মানি না, আমি মানবতা মানি।’
এর আগে মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে বলেন—
‘একজন মানুষেরও যদি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে ১০ লাখ বাঙালি দিল্লি অভিমুখে পদযাত্রা করবে, রাজপথ ঘেরাও করবে।’
বাংলা ভাষাকে অপমান করায় বিজেপিকে তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। দিল্লি পুলিশের এক চিঠিতে বাংলাকে ‘বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা’ বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি বলেন—
‘যদি বাংলা না থাকে, তাহলে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান কোন ভাষায় লেখা হয়েছে? স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদান ভুলিয়ে দিতে চায় তারা। আমরা এই ভাষাগত সন্ত্রাস সহ্য করব না।’
সূত্র: এনডিটিভি
খবরওয়ালা/শরিফ