খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে বৈশাখ ১৪৩২ | ১১ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াতপন্থী একটি বিদ্যালয়ে যোগদান না করায় মো. সেলিম (৫০) নামের এক স্কুল শিক্ষককে ডেভিল হান্ট অভিযানের নামে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার মধ্যরাতে বাউফল থানার পুলিশ আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। মো. সেলিম বাউফলের আসম ফিরোজ প্রী ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, কাশিপুর প্রী ক্যাডেট স্কুলে যোগ না দেওয়ায় জামায়াত সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ তাঁকে হয়রানি করছে। শিক্ষক সেলিমের মেয়ে মোসা. সুলতানা আক্তার মনি জানান, “মোজাম্মেল হক, হুমায়ুন কবির ও কবির হোসেন নামে জামায়াত কর্মীদের মালিকানাধীন একটি স্কুলে যোগ না দেওয়ায় আমার বাবাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করে আওয়ামী লীগ বানিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত নন।”
এ বিষয়ে জানতে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তারুজ্জামানের কাছে শিক্ষক সেলিমের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “তাকে ডেভিল হান্ট অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
তবে অভিযানে গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চাইলে খবরওয়ালা পত্রিকার পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. শিবলী সাদেকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ওসি আক্তারুজ্জামান।
উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অপরাধ দমনে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলবে, তবে ডেভিল হান্ট নাম ব্যবহার করা হবে না। একইসাথে, বিশেষ অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘন না হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি এই নীতিগত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বাউফলে ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের গ্রেফতারের অভিযোগ উঠায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমির মাওলানা মো. ইসহাক বলেন, “এ ঘটনায় জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ।”
এ বিষয়ে বাউফল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মুহাম্মদ শাকুর বলেন, “আমি বর্তমানে ট্রেনিংয়ের কারণে স্টেশনের বাইরে আছি। খোঁজ নিচ্ছি।”