খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
দেশের পৃথক দুটি জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় চরম নৃশংসতার শিকার হয়েছেন এক যুবক ও এক শিশু। রাজশাহীর বাঘায় গভীর রাতে বসতবাড়িতে ঢুকে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এক স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের প্রাথমিক ধারণা, উভয় ঘটনাই অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং এর নেপথ্যে পূর্বশত্রুতা বা ব্যক্তিগত আক্রোশ কাজ করতে পারে।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার করালি নওশারা (হবিরচর) গ্রামে গত শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত সোহেল রানা (৩৫) ওই গ্রামের কালু মণ্ডলের সন্তান। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মধ্যরাতে একদল দুর্বৃত্ত বাড়ির টিনের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং সোহেলকে নাম ধরে ডাকতে থাকে। কোনো সাড়া না পেয়ে তারা বেড়া কেটে সরাসরি গুলি চালায়। গুলিতে সোহেলের পাঁজরের ওপরে এবং বুকের নিচে জখম হয়। এই সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে স্ত্রী স্বাধীনা বেগমকেও (৩০) মারধর করে জখম করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হুমায়রা জেরিন সোহেল রানাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিচে বাঘা ও রাঙ্গাবালীর দুটি অপরাধমূলক ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিবরণ | বাঘা, রাজশাহী (হত্যাকাণ্ড-১) | রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী (হত্যাকাণ্ড-২) |
|---|---|---|
| নিহত ব্যক্তির নাম | সোহেল রানা (৩৫) | আয়েশা মণি (১১) |
| ঘটনার সময় | শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টা। | নিখোঁজের দুই দিন পর রোববার সকালে উদ্ধার। |
| হত্যার ধরন | আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সরাসরি গুলি। | শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বস্তাবন্দি। |
| সম্ভাব্য কারণ | পূর্বশত্রুতা ও চরের জমি সংক্রান্ত বিরোধ। | ব্যক্তিগত আক্রোশ বা পারিবারিক কোন্দল। |
| তদন্তের বর্তমান অবস্থা | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক মর্গে। | মামলা প্রক্রিয়াধীন ও ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। |
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছরের ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরে খড় কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি রক্তাক্ত সংঘর্ষের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ওই সময় ‘কাঁকন বাহিনী’র গুলিতে আমান মণ্ডল ও নাজমুল হোসেন নামে দুজন নিহত হয়েছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, সোহেল রানার হত্যাকাণ্ডের পেছনেও সেই কুখ্যাত কাঁকন বাহিনীর সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে। বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মণ্ডল জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে এবং হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আয়শা মণির (১১) নিখোঁজের দুদিন পর মর্মান্তিক পরিণতি প্রকাশ্যে এসেছে। রোববার সকালে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দায় একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দিনমজুর বাবার ছোট মেয়ে আয়শা গত শুক্রবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল। রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মরদেহ লুকিয়ে রাখার জন্য বস্তাবন্দি করা হয়েছিল। প্রবাসী মায়ের অবর্তমানে এই নিষ্পাপ শিশুটির এমন মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উভয় হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিলের আশ্বাস দিয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনাগুলো জনমনে গভীর নিরাপত্তার অভাব তৈরি করেছে।