খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রফতানি কাঠামো এখনও সংকীর্ণ এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ রফতানি একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন পণ্য সংযোজন এবং নতুন বাজারে সম্প্রসারণে জোর দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
রমজান মাসের বাজার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। সরকারের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, এবং পাইপলাইনে নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
তিনি রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এটি এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। সাধারণ মানুষ পুরো মাসের বাজার একবারে করার কারণে খুচরা বাজারে হঠাৎ ভোগ বৃদ্ধি পায়। তবে এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”
বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীল পরিবেশে তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করে। দেশে বড় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে, প্রতি বছর প্রায় ২০–২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত দুই-তিন বছরে বিনিয়োগ স্থবির থাকা দেশের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত বিনিয়োগ সম্প্রসারণ না হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রমজান মাস শুরু হওয়ায় এটি সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফলতা অর্জন ছাড়া বিকল্প নেই।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দফতর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নিচের টেবিলে দেশের রফতানি কাঠামোর বর্তমান চিত্র এবং পরামর্শমূলক উদ্যোগের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য / অবস্থা | সুপারিশ / উদ্যোগ |
|---|---|---|
| রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য | মোট রফতানির ৮৫% একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল | নতুন পণ্য সংযোজন, বৈচিত্র্য বৃদ্ধি |
| নতুন বাজার সম্প্রসারণ | সীমিত | নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা |
| নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত | সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুত, পাইপলাইনে পর্যাপ্ত সরবরাহ | পর্যাপ্ত মজুত রক্ষা, বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা |
| বিনিয়োগ পরিস্থিতি | গত দুই-তিন বছরে স্থবির | বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত, স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি |
| শ্রমবাজার | প্রতি বছর ২০–২২ লাখ নতুন কর্মী প্রবেশ করছে | কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিনিয়োগ সম্প্রসারণ জরুরি |
বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকারের লক্ষ্য বাজার স্থিতিশীল রাখা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা এবং রফতানিতে বৈচিত্র্য আনা, যাতে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হয়।