খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে মাঘ ১৪৩২ | ১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আজ, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সংসদে উন্মোচিত ইউনিয়ন বাজেটের পর ভারতীয় সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর (PSU Banks) শেয়ারে তীব্র পতন ঘটেছে। নিফটি পিএসই ব্যাংক সূচক দিনে প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ইন্ট্রাডে নিম্নতম স্তর ৮,৩৮৭.৯৫ পয়েন্টে নেমেছে, যা পূর্ববর্তী সেশনের ক্লোজ ৯,০১৯.৩৫-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম। দুপুর ২টার দিকে সূচক ৮,৬৮৪.৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছিল, যা ৩৩৪.৪০ পয়েন্ট বা ৩.৭১ শতাংশ কম।
সব সূচকের অন্তর্ভুক্ত ব্যাংকই লেনদেনে নিম্নমুখী ছিল। প্রধান ব্যাংকগুলোর শেয়ারের পতনের পরিসর ছিল ৩ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে।
| ব্যাংক নাম | শেয়ারের পতন (%) |
|---|---|
| Bank of India | ৫.৮ |
| Bank of Maharashtra | ৫.২ |
| Indian Bank | ৪.৯ |
| Bank of Baroda | ৬.৩ |
| Union Bank of India | ৬.৭ |
| State Bank of India | ৭.০ |
| Indian Overseas Bank | ৩.০ |
| Central Bank of India | ৩.২ |
| Punjab & Sind Bank | ৩.১ |
| Canara Bank | ২.৯ |
| Punjab National Bank | ৩.০ |
| UCO Bank | ৩.০ |
পিএসই ব্যাংকের শেয়ারের এই পতনের মূল কারণ হলো বাজেটে ঘোষিত বড় ঋণসংগ্রহ এবং সরকারি নীতি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার আগামী অর্থবছর ২০২৬-২৭ (FY27)-এ বাজার থেকে সর্বাধিক ১৭.২ ট্রিলিয়ন টাকা ধার নেবে। এছাড়াও, FY27-এর জন্য মূলধন ব্যয়ের ৯ শতাংশ বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়েছে।
বাজেট ভাষণে সীতারামন একটি উচ্চস্তরের ব্যাংকিং কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের কাঠামো, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতির মূল্যায়ন করবে। এই কমিটি দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে ব্যাংকিং সেক্টরের সমন্বয় নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, “বর্তমান ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী ব্যালান্সশিট, উন্নত সম্পদ মান এবং ভারতের ৯৮ শতাংশ গ্রামেরও বেশি আঞ্চলিক কাভারেজের মাধ্যমে চিহ্নিত।”
অর্থনীতিবিদ এবং বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘোষণাগুলো দীর্ঘমেয়াদে পিএসই ব্যাংকের কার্যকারিতা ও বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে পারে, যদিও তাত্ক্ষণিক পুনঃমূলধন বা ঋণ-গ্যারান্টির অভাব শর্ট-টার্মে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি সীমিত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা আরও মন্তব্য করেছেন, পিএসই ব্যাংক ও পাবলিক সেক্টর নন-ব্যাঙ্কিং ফাইনান্সিয়াল কোম্পানিগুলোর (NBFCs) শক্তিশালীকরণ, সুশাসন এবং প্রযুক্তি গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো এবং অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের জন্য মূলধন পৌঁছাতে সহায়ক হবে, এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বা গ্রাহক সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
সুতরাং, বাজেট ২০২৬-এর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সরকারি ব্যাংকের শেয়ারসমূহের পতন হলেও, পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক সংস্কার দেশের ব্যাংকিং খাতকে “উন্নত ভারত” লক্ষ্য অনুযায়ী শক্তিশালী ও টেকসই করার দিকে নিয়ে যেতে পারে।