খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে চৈত্র ১৪৩১ | ২ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক দিকে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ কমে এসেছে এবং চলতি হিসাবের লেনদেনের অবস্থা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ বেড়েছে এবং রপ্তানি আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করেছে ৩,০৩৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। অপরদিকে, আমদানি হয়েছে ৪,৩৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৩৭০ কোটি ডলার। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১,৪৩৩ কোটি ডলার, যা এই সময়ের তুলনায় ৪.৪১ শতাংশ কমেছে। এই কমে যাওয়া ঘাটতি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক খবর, যা মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ১৮.৪৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২.৬ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৫.০৭ বিলিয়ন ডলার। এই রেমিট্যান্স প্রবাহের বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে এবং সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সহায়তা করেছে।
এছাড়া, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ব্যয় খুব একটা বাড়েনি, যা বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ কমানোর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ফলে, সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।
চলতি হিসাবের লেনদেনে ঋণাত্বক অবস্থান ছিল ১২৭ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ছিল ৪০৭ কোটি ডলার। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও বৈদেশিক লেনদেনে উন্নতির দিক নির্দেশ করে।
চলতি হিসাবের বাইরেও সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্য (ওভারঅল ব্যালান্স) ঘাটতি কিছুটা কমেছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এই সূচকে ঘাটতি ছিল ১১০ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যেখানে গত মাসে এটি ছিল ১১৭ কোটি ডলার। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ছিল ৪৪৪ কোটি ডলার, যা বর্তমান পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক কম।
সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক হয়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি কমে এসেছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব উন্নয়ন দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
খবরওয়ালা/এমবি