খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
ইসরাইলি বাধা উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ত্রাণবাহী প্রায় ৩০টি নৌযান। উপতক্যাটি থেকে বর্তমানে মাত্র ৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বহরটি।
বুধবার রাতে গাজা থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে ফ্লোটিলাকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে ইসরাইলি সেনারা। তারা অন্তত আটটি নৌযান থামিয়ে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে—দেইর ইয়াসিন, হিউগা, স্পেক্টার, আদারা, আলমা, সিরিয়াস, আরোরা ও গ্রান্ডি ব্লু। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মোট ১৩টি নৌযানকে থামানো হয়েছে।
নৌযানগুলো থেকে বেশ কয়েকজন অধিকারকর্মীকে আটক করেছে ইসরাইলি সেনারা। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন।
ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘হামাস-সুমুদ ফ্লোটিলার কয়েকটি নৌযান নিরাপদভাবে থামানো হয়েছে। আরোহীদের ইসরাইলি বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। গ্রেটা ও তার সঙ্গীরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা হচ্ছে গাজার জন্য সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা। বহরটিতে রয়েছে ৪০টিরও বেশি বেসামরিক নৌযান। এতে অংশ নিয়েছেন ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ মানুষ। এর মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের নাগরিক, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত সদস্য, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।
এই উদ্যোগের প্রথম বহর গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিউনিসিয়া, ইতালির সিসিলি দ্বীপ এবং পরবর্তী সময়ে গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকে আরও নৌযান যুক্ত হয়। ফলে বর্তমানে মোট নৌযানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০-এর বেশি।
শুরুর পর থেকেই ইসরাইল দাবি করে আসছে যে এই ফ্লোটিলার সঙ্গে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের যোগাযোগ রয়েছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো বাধা না পেলে বহরটির স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে গাজায় পৌঁছানোর কথা ছিল।
খবরওয়ালা/এমএজেড