খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরং বাজারে আজ বিকেল ৫টার দিকে জেএসএস (মূল) সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত এই অভিযানে সেনারা সন্ত্রাসীদের অবৈধ চাঁদা আদায়ের সময় শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা চালায় এবং সেনার টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সেনারা দ্রুত প্রতিরোধ গঠন করে পাল্টা গুলি বর্ষণ করলে সন্ত্রাসীরা প্রাথমিকভাবে স্থানীয় একটি স্কুল ঘরে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে। পরে সন্ত্রাসীরা সেই স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
সেনারা ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে হ্লামংনু মার্মা নামে একজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে। তার জরুরি চিকিৎসার জন্য পুলিশের সহায়তায় বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিস্তারিত নিম্নরূপ:
| ক্রমিক | সামগ্রীর নাম | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | সাবমেশিনগান (SMG) | ১টি |
| ২ | SMG অ্যামোনিশন | ১৪৩ রাউন্ড |
| ৩ | পিস্তল অ্যামোনিশন | ১৪ রাউন্ড |
| ৪ | ব্লাঙ্ক অ্যামোনিশন | ৫ রাউন্ড |
| ৫ | অস্ত্রের ম্যাগাজিন | ২টি |
| ৬ | অন্যান্য সরঞ্জামাদি | – |
আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতেও সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের বিরুদ্ধে কঠোর ও পরিকল্পিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানের সফলতা স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের জন্য একটি শান্তি-সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমাতে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পার্বত্য অঞ্চলে পরিচালিত বিভিন্ন নিরাপত্তা অভিযানগুলোর ধারাবাহিকতার অংশ, যা সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি মোকাবেলায় যথেষ্ট কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।
এই অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা প্রেরণ করেছে।