খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পুরাতন শিবাতলী এলাকায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১১টার দিকে রহিমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রহিমা স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রহিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। তার ছেলে নুরুল আমিন জানিয়েছেন, “আমার মায়ের বয়স ৭০। তিনি দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসে ভুগছিলেন। এ বয়সে তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করা মেনে নেওয়া যায় না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য অলিউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
আলীকদম থানার ওসি আলমগীর হোসেন শাহ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে পারিবারিক কলহের জেরে মেজো ছেলের প্রথম স্ত্রীসহ দুই পুত্রবধূ রহিমা বেগমকে হত্যা করতে অংশ নিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের হাতে সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নৃশংস এবং শোকজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নিহত বৃদ্ধার পরিবার ও প্রতিবেশীরা সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তি দাবি করছেন।
| তথ্যসূচক | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | রহিমা বেগম |
| বয়স | ৭০ বছর |
| ঠিকানা | ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন, আলীকদম, বান্দরবান |
| পারিবারিক অবস্থা | স্বামী: আবু তাল, ছেলে: নুরুল আমিন, পরিবারে অন্যান্য সদস্য |
| আক্রান্ত অবস্থান | দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী, পক্ষাঘাত |
| উদ্ধার সময় | ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা |
| সন্দেহভাজন | ৪ জন (দুই পুত্রবধূসহ) |
| ঘটনার ধরন | গলাকাটা হত্যা |
| মামলা ও তদন্ত | মামলা প্রক্রিয়াধীন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো |
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ এবং মেনরলীয় বিরোধ এ হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ হত্যাকাণ্ড বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কমন নয়, তবে বৃদ্ধা নাগরিকের প্রতি এমন নৃশংস আচরণ এলাকায় সজাগ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত বিচার হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন নির্মম ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।