খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া গোলাগুলির শব্দে সীমান্তজুড়ে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাত ১১টার পর থেকে শুরু হওয়া গুলির শব্দ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে চলতে থাকে।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু পশ্চিমপাড়া ও উখিয়ার থাইংখালী এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাত ১১টা থেকে ১টার মধ্যেই গোলাগুলির শব্দ সবচেয়ে প্রবল ছিল। স্থানীয় শিক্ষক বাশার বলেন, “রাতে প্রচণ্ড গুলির শব্দ শুনেছি। ওপারে বড় সংঘর্ষ চলছে মনে হয়। এমন শব্দ আগে কখনো শুনিনি। সবাই ভয়ে আছে।”
স্থানীয় সূত্র ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, মংডু জেলার ঢেকুবনিয়া এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও রাখাইন বিদ্রোহী সংগঠনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দাবি করা হয়েছে, এ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত ১৭ বছর বয়সী রোহিঙ্গা কিশোর ইয়াসের আহত হয়েছে। তবে এ তথ্যের সত্যতা এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস. এম. খায়রুল আলম পিএসসি এবং ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, “ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে, সীমান্ত থেকে বেশ দূরে ঘটছে। বাংলাদেশের ভেতরে গুলি আসার কোনো আশঙ্কা নেই। আমরা সতর্ক আছি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
রোহিঙ্গা কিশোর আহত হওয়ার বিষয়ে বিজিবি কর্মকর্তারা আরও বলেন, “বাংলাদেশের ভেতরে কোনো গুলি পড়েনি। ঘটনাস্থল সীমান্তের ১২ নম্বর ক্যাম্প এলাকা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।”
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আরাকান আর্মি দেড় বছর ধরে সশস্ত্র সংঘর্ষ চালিয়ে আসছে। তারা ইতোমধ্যে রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চলসহ ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নিলেও সংঘর্ষ এখনো অব্যাহত রয়েছে, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন