খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মাদকাসক্ত ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে আশরাফুল নামের এক যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তার বাবা, সাবেক কাউন্সিলর আহিজুল মুন্সি। এই ঘটনা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নলুয়া গ্রামে ঘটেছে।
আহিজুল মুন্সি জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। নেশাগ্রস্ত বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরাঘুরি করত এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করত। একাধিকবার সতর্ক করার পরও আশরাফুল তার পথ পরিবর্তন করেনি। “তার ধারাবাহিক অশিক্ষিত ও অশালীন আচরণের কারণে আমার ও আত্মীয়স্বজনের সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লজ্জার কারণে আমি আর সমাজে তার জন্য মুখ দেখাতে পারছিলাম না। তাই আজ তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছি,” বলেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, আশরাফুলের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য এলাকায় বহুবার সালিশি হয়েছে। সে শুধু চুরি নয়, মাদক সেবন ও বিভিন্ন প্রকার অপরাধে জড়িত ছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আশরাফুল আরও দুই সহযোগীর সঙ্গে মিলিত হয়ে এলাকার এক ব্যবসায়ীর দোকানে চুরি করেছে। এলাকার সাধারণ মানুষও তার অত্যাচারে আতঙ্কিত ছিল। পরিবারও তার অসদাচরণের কারণে বহুবার অপমানিত হয়েছে। অবশেষে অতিষ্ঠ হয়ে তার বাবা পুলিশে ছেলেকে সোপর্দ করেছেন।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, “আশরাফুলকে তার বাবা নিজেই থানায় এনে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
| ঘটনা তারিখ | অপরাধের ধরন | সহযোগী | স্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | চুরি | ২ জন | স্থানীয় ব্যবসায়ী দোকান | দোকান থেকে নগদ ও পণ্য চুরি |
| বিভিন্ন সময় | চুরি ও সামাজিক অশান্তি | – | নলুয়া গ্রাম ও আশেপাশের এলাকা | এলাকার শান্তি বিঘ্নিত |
| দীর্ঘকাল | মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড | মাদকাসক্ত বন্ধুরা | গ্রাম-শহর | পরিবার ও সমাজে লজ্জা সৃষ্টি |
স্থানীয়রা আশার প্রকাশ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যস্থতায় আশরাফুল যেন সঠিক পথে ফিরে আসে এবং ভবিষ্যতে সমাজে শান্তি বজায় থাকে। বাবা-মায়ের উদ্যোগ সমাজে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, যেখানে পরিবার তাদের সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনকে সহযোগিতা করেছে।
এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার জন্য কখনও কখনও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা সমাজে দায়িত্বশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।