খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
প্রয়াত কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক দাউদ হায়দারকে জার্মানির বার্লিনে সমাহিত করা হয়েছে। শুক্রবার (২ মে) নয়েকোলন এলাকার হারম্যানস্ট্রাসে অবস্থিত সেন্ট মিশেল কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন কবির ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
দাউদ হায়দার গত ২৬ এপ্রিল বার্লিনের এক ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আজ তাঁর শেষ বিদায়ের মুহূর্তে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ, হামবুর্গ এবং ফ্রান্সের প্যারিস থেকেও অনেকে বার্লিনে আসেন।
প্রিয় এই কবির প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে, তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, দাফনের সময় কবির কবরে বাংলাদেশের মাটি ছিটিয়ে দেওয়া হয়—যা কবির দেশপ্রেমের এক নীরব প্রতীক।
জার্মানির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাউদ হায়দারের মৃত্যু সংবাদ গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর স্মরণে আগামী শনিবার (৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বার্লিনের কুর্ট-টুখলোস্কি লাইব্রেরিতে একটি স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
দাউদ হায়দারের জন্ম ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহারপাড়া গ্রামে। সত্তরের দশকের শুরুতে তিনি দৈনিক সংবাদ-এর সাহিত্য পাতার সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এই পত্রিকায় তাঁর লেখা ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাঁকে ১১ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। পরে ১৯৭৪ সালের ২১ মে তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তীতে প্রথম ১৩ বছর তিনি কলকাতায় ছিলেন। পরে জার্মানির নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাসের সহযোগিতায় ১৯৮৬ সালের ২২ জুলাই জার্মানি এসে পৌঁছান। তখন থেকেই তিনি জার্মানির বার্লিন শহরে বসবাস করে আসছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দাউদ হায়দারই প্রথম লেখক, যাঁকে লেখালেখির কারণে নির্বাসনে যেতে হয়। ৫০ বছর ধরে কবি দাউদ হায়দার নির্বাসনে ছিলেন। এই সময়ে তিনি আর কখনোই দেশে যেতে পারেননি। বাংলাদেশের কোনো সরকার এই কবিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
খবরওয়ালা/আরডি