খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১৯ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
গত ৮ মে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের লোকজন বিএনপিতে যোগ দিতে পারবেন। এরপর গত শনিবার (১৭ মে) দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিল, কিন্তু বিএনপির কার্যক্রমে বাধা দেয়নি, আমাদের ওপর জুলুম করেনি, উল্টো ভেতরে-ভেতরে আমাদের সহযোগিতা করেছে, তাদের দলে নিতে কোনো সমস্যা নেই।
তবে এবার ভিন্ন কথা বললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অফিসিয়ালি ১৮ কোটি জনগণ বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা এখন ১৯ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপির কি এত আকাল পড়েছে যে আওয়ামী লীগ থেকে সদস্য আমদানি করতে হবে? যেই আওয়ামী লীগের ডিএনএতে গণতন্ত্র নাই, তাদের কেন আহ্বান করতে হবে বিএনপির সদস্য হওয়ার জন্য?’
সোমবার (১৯ মে) বিকালে সিলেট নগরীর শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সিলেট বিভাগে বিএনপির নতুন সদস্য সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির জন্ম না হলে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন হতো না। বিএনপি সুসংগঠিত না থাকলে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেত না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও চালু হতো না। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ও নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয়ে গর্বিত যে কেউ বিএনপির সদস্য হতে পারেন।’
আওয়ামী লীগ থেকে সদস্য নেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যেই মানুষ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, যিনি নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দেবেন, তিনিই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হতে পারবেন। এই দেশের প্রতিটি ধূলিকণাকে বিএনপি ধারণ ও লালন করে। বাংলাদেশে অফিসিয়ালি ১৮ কোটি জনগণ বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা এখন ১৯ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপির কি এত আকাল পড়েছে যে আওয়ামী লীগ থেকে সদস্য আমদানি করতে হবে? যেই আওয়ামী লীগের ডিএনএতে গণতন্ত্র নাই, তাদের কেন আহ্বান করতে হবে বিএনপির সদস্য হওয়ার জন্য?’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যাকারী। আজ পর্যন্ত নিজেদের অপরাধের জন্য অনুশোচনাও করেনি। বরং গণঅভ্যুত্থনের সময় আন্দোলনকারীদের দুষ্কৃতকারী বলে আখ্যায়িত করছে।’
তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা জানতাম একদিন না একদিন ফ্যাসিবাদের পতন হবেই। যারা গুম, খুন, অপহরণ ও নির্যাতনে লিপ্ত, তাদের একদিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আর বাংলাদেশ যেন আর কখনও স্বৈরশাসনের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) জি কে গউছের সভাপতিত্বে ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম. রাসেদুজ্জামান মিল্লাত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, আরিফুল হক চৌধুরী ও এম এ মালিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার।
খবরওয়ালা/এন