খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারে হাত দিয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি এই পরিবর্তনের গতিকে ‘ঝোড়ো হাওয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রযন্ত্রের স্থবিরতা কাটিয়ে তুলতে এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির গড়ে তোলা ‘প্রশাসনিক দুর্গ’গুলো ভেঙে দিতে বিএনপি দৃশ্যমান সাফল্য দেখাচ্ছে।
আজ বুধবার নিজের ভেরিফাইড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় গোলাম মাওলা রনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ মাস ধরে অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় কিংবা পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। কিন্তু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার এখন সেসব জায়গায় শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে।
রনির ভাষ্যমতে, “তারেক রহমান সাহেব ক্ষমতায় বসার পর থেকে গত কয়েকদিনে একের পর এক প্রশাসনিক চমক সৃষ্টি করে চলেছেন। গত দুই দিনের মধ্যে প্রশাসনের মোটামুটি একটা দফারফা বিএনপি করে দিয়েছে।” বিশেষ করে পুলিশ বাহিনী এবং সিটি করপোরেশনের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে আধিপত্য ছিল, তা চুরমার করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
গোলাম মাওলা রনি তাঁর বিশ্লেষণে বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে সচিবালয় ও মন্ত্রণালয়গুলোতে যে স্থবিরতা বিরাজ করছিল, মন্ত্রীরা এখন তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। জনমনে আস্থা ফেরাতে বিএনপি যেসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে।
নিচে গোলাম মাওলা রনির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক রদবদলের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| প্রশাসনিক খাত | বিগত ১৭ মাসের অবস্থা | বর্তমান বিএনপির সরকারের পদক্ষেপ |
| পুলিশ বাহিনী | জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত কর্মকর্তাদের আধিপত্য | বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অপসারণ ও ঢেলে সাজানো |
| সিটি করপোরেশন | নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব ও স্থবিরতা | নতুন প্রশাসক নিয়োগ ও দলীয় প্রভাব মুক্ত করার চেষ্টা |
| সচিবালয়/মন্ত্রণালয় | কাজের মন্থর গতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা | মন্ত্রীদের সরাসরি তদারকি ও দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি |
| রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি | কেবল মৌখিক আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল | দৃশ্যমান বাস্তবায়নে মন্ত্রীদের কঠোর নির্দেশনা |
গোলাম মাওলা রনি বিশ্বাস করেন, এই শুদ্ধি অভিযানের ফলে প্রশাসনের একটি বিরাট অংশ যারা জামায়াত বা এনসিপির মতাদর্শী ছিল, তারা ইতোমধ্যে ‘ঝেঁটিয়ে বিদায়’ হয়েছে। অনেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি বুঝতে পেরে নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এই পরিবর্তনকে তিনি বিএনপির জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি এও সতর্ক করেছেন যে, এই দ্রুত পরিবর্তনের ফলে যাতে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের এই কঠোর অবস্থান কেবল ক্ষমতার সংহতকরণ নয়, বরং রাষ্ট্র মেরামতের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন দেখছে কীভাবে দীর্ঘদিনের জগদ্দল পাথরগুলো সরে যাচ্ছে এবং নতুন জনবল দায়িত্ব গ্রহণ করছে। তবে এই ‘তছনছ’ করে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কতটা টেকসই হয়, তা দেখার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
রাজনৈতিক মহলে গোলাম মাওলা রনির এই বিশ্লেষণ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন ওপেন সিক্রেট। রনির মতে, বিএনপি এখন নিজের একক শক্তিতে প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে বদ্ধপরিকর।