খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই রাজনৈতিক দলের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কাটাখালী বাজারে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয় এবং এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের নজর কেড়েছে এই ঘটনার তীব্রতা ও প্রভাব।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির নেতা রমিজ উদ্দিন মাস্টার ও পাভেল আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিরোধ এই সংঘর্ষের মূল কারণ। সংঘর্ষ চলাকালীন উভয়পক্ষের বহু লোক আহত হন এবং স্থানীয় একটি বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। তবে উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
রমিজ উদ্দিন মাস্টার অভিযোগ করেছেন, “আওয়ামী লীগের অনুগতরা বিএনপির মধ্যে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে এবং তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।” তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, পাভেল আহমেদ দাবি করেছেন, থানার অনুমতি নিয়ে কাটাখালী বাজারের বিএনপি কার্যালয়ে সভা চলাকালীন তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন রমিজ উদ্দিন মাস্টার।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এই সংঘর্ষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নয়, বরং গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের ফল। “বাজার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ফলস্বরূপ সংঘর্ষ ঘটে,” তিনি বলেন। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় আনুমানিক ৭–৮ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ইতোমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
নিচের টেবিলে সংঘর্ষের মূল তথ্য ও প্রভাব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত | প্রভাব / লক্ষ্য |
|---|---|---|
| সংঘর্ষের স্থান ও সময় | কাটাখালী বাজার, বিশ্বম্ভরপুর, ১১ জানুয়ারি, রাত ৮.৩০ মিনিট | স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি |
| মূল পক্ষ | রমিজ উদ্দিন মাস্টার সমর্থক বনাম পাভেল আহমেদ সমর্থক | দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিরোধ |
| আহত সংখ্যা | অন্তত ১৫ জন | চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার, নিরাপত্তা বৃদ্ধি |
| অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া | উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী | জনমত বিভ্রান্তি, দায় নির্ধারণে দ্বন্দ্ব |
| পুলিশ মন্তব্য | গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক নয় | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, শান্তি বজায় |
সংক্ষেপে, সুনামগঞ্জের এই সংঘর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিরোধের প্রভাব এবং তার প্রভাবিত নিরাপত্তা ও শান্তি পরিস্থিতি প্রকাশ করে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে, আহতদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং এলাকায় তত্ত্বাবধান জোরদার করা হয়েছে।