খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিএনপি সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিনকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সাহাব উদ্দিন আগে সরকারি সাদাপাথর লুট এবং অবৈধ জমি দখলের অভিযোগের কারণে তার পদ থেকে স্থগিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরি প্রথিম আলোকে নিশ্চিত করেন, “সাহাব উদ্দিনের সকল পদ পার্টি শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিএনপির নীতি-আদর্শের বিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। তার আবেদন গ্রহণের পর ১ জানুয়ারি থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।”
সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও ঘটনা গত এক বছর ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। নিম্নে তার সঙ্গে সম্পর্কিত মূল ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিলে দেওয়া হলো:
| তারিখ | ঘটনা | পদক্ষেপ / মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১১ আগস্ট ২০২৫ | কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থগিতাদেশ | উগ্র অর্থ আদায়, জমি দখল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ |
| ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | র্যাব-৯ কর্তৃক গ্রেফতার | সরকারি সাদাপাথর লুট মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া |
| ১৭ মার্চ ২০২৫ | সরকারি জমি দখল | ১৫০ একর সরকারি জমি দখলের রিপোর্ট প্রকাশ |
| ১৮ মার্চ ২০২৫ | উচ্ছেদ অভিযান | প্রায় ৭০ একর জমি উদ্ধার, ১০০টি পাথর ভাঙার মেশিন এবং ৫০টি টিনশেড অবৈধ স্থাপনা ধ্বংস |
| ১৯ মার্চ ২০২৫ | জেলা বিএনপির নোটিশ | কারণ দর্শানোর নোটিশ; তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন |
| ১০ এপ্রিল ২০২৫ | তদন্ত প্রতিবেদন | ভোলাগঞ্জ পাথর ভাঙার খনি পরিদর্শন; সাহাব উদ্দিন ও পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার প্রমাণসহ প্রতিবেদন জমা |
স্থানীয় সূত্র মতে, তদন্ত প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, “এত অবৈধ কর্মকাণ্ড উপজেলা সভাপতির নেতৃত্বে সংঘটিত হবে, তা কল্পনাযোগ্য ছিল না। এই ঘটনাগুলি পার্টির সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এবং নেতৃত্বকে দুর্বল করেছে।”
সাহাব উদ্দিনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্ব এটি ‘অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরও দলকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে এবং কড়াকড়ি তদারকি বজায় রাখতে হবে।
এ ঘটনা রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহি এবং নৈতিকতার প্রশ্নকেও পুনরুজ্জীবিত করেছে, যা দেখায় যে দলীয় একতা ও জনমতের প্রতিফলনের মধ্যে সমতা রক্ষা করা কতটা চ্যালেঞ্জিং।