খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৫ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নানা ধরনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কূটনৈতিক, সাংগঠনিক ও অন্যান্য বিষয় সামনে রেখে দলটি কৌশলে এগোচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিএনপির হাইকমান্ড মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে:
১. যে কোনো মূল্যে নিজেদের ঐক্য বজায় রাখা,
২. বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করা,
৩. যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষে এক হয়ে কাজ করা।
দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষা করতে না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। ইতিমধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য নেতারা সবার মধ্যে ঐক্য রক্ষার বার্তা দিচ্ছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের গুলশান কার্যালয়ে ডেকে কথা বলার মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডাকার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকটি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বা শীর্ষ নেতার পছন্দ না হলে তাদের ডাকা হয় না। কেউ পেশাগত কারণে বিদেশে থাকলে তাও অবহিত করা হয় না।
জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। বার্তায় বলা হয়েছে, যে কোনো প্রার্থী দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
তবে হাইকমান্ডের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং দলে বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ নিয়মিত কেন্দ্রে জমা হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে ৭ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার, শোকজ, পদাবনতিসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের নির্বাচনী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জানিয়ে দেন।
মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, একাধিক জরিপের মাধ্যমে দল সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থীকেই বেছে নেবে। যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোট কথা, সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তবে বিভিন্ন আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী আলাদা কর্মসূচি নেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। এই বিভেদ নিরসনে সংশ্লিষ্টদের ডেকে হাইকমান্ডের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও কোন্দলের অভিযোগ কেন্দ্রে নিয়মিত জমা হচ্ছে। সম্প্রতি চাঁদপুর, নরসিংদী, চট্টগ্রাম ও সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি জেলা থেকে অভিযোগ এসেছে। কেন্দ্র এবং স্থানীয় বিএনপি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবুও দ্বন্দ্ব কমছে না।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা সভাপতি খায়রুল কবির খোকন বলেন, অন্যায়কারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নরসিংদী জেলা বিএনপির এক নোটিশে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সভায় দলীয় বিভাজন, বিভ্রান্তি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রায়পুরা উপজেলার সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “৫ আগস্টের পর কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হয়নি। কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে অন্যায় করলে তার দায় দল নেবে না। কোনো অপরাধী বা দুষ্কৃতকারীকে বিএনপি কখনো প্রশ্রয় দেয়নি, আগামীতেও দেবে না। দলের মধ্যে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”