খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করা মো. আবদুল হান্নান এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার আদি ও প্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সসম্মানে গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন না। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আবদুল হান্নান তার বক্তব্যে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি দাবি করেন, অতীতে দুইবার তাকে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও একটি ‘কুচক্রী মহলের’ ষড়যন্ত্রে সেই সুযোগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এবারও মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে লড়তে বাধ্য হন, যা মূলত ছিল তার কর্মী-সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবির বহিঃপ্রকাশ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি আমার প্রিয় দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করিনি। আমার লড়াই ছিল ফরিদগঞ্জের সেই জনবিচ্ছিন্ন মহলের বিরুদ্ধে, যারা দলের নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে আসছিল। আমার রক্তে বিএনপি মিশে আছে এবং আমি আমৃত্যু এই আদর্শেই অটল থাকব।”
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ আসনে আবদুল হান্নানের বিজয় ছিল অনেকটা চমকপ্রদ। নিচে ওই আসনের নির্বাচনী ফলাফলের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| প্রার্থীর নাম | রাজনৈতিক পরিচয় | প্রতীক | ফলাফল |
| মো. আবদুল হান্নান | স্বতন্ত্র (বিএনপির সাবেক নেতা) | ঈগল/অন্যান্য | বিজয়ী |
| নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী | বিএনপি মনোনীত প্রার্থী | ধানের শীষ | পরাজিত |
| অন্যান্য প্রার্থী | বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র | বিবিধ | জামানত বাজেয়াপ্ত/অন্যান্য |
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এলাকায় ছড়ানো গুজব ও সম্ভাব্য সহিংসতার বিষয়ে আবদুল হান্নান কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে এবং তার সমর্থকদের ওপর অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের জানমালের সামান্যতম ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। একই সাথে তিনি তার অনুসারীদের শান্ত থেকে ধৈর্য ধরার নির্দেশ দেন।
আবদুল হান্নানের এই শপথ না নেওয়ার ঘোষণা চাঁদপুর জেলা ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যখন আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে, তখন তার এই অবস্থান দলের প্রতি চরম আনুগত্য হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তিনি মনে করেন, সংসদ সদস্য পদের চেয়ে দলের আদর্শ ও স্বীকৃতি তার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি তাকে নির্বাচিত করার জন্য ফরিদগঞ্জবাসী, স্থানীয় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এখন দেখার বিষয়, বিএনপির হাইকমান্ড এই স্বতন্ত্র জয়ী নেতার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দলীয় ফোরামে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার অবস্থানে অনড় থাকবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।