খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ছিলেন একাধারে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। তাঁর জীবন ছিল ন্যায়বিচার, আদর্শ এবং মানবিক মূল্যবোধে উজ্জ্বল।
তিনি ১৯২১ সালের ৩১ জানুয়ারি বৃহত্তর ময়মনসিংহের টাঙ্গাইল জেলার নাগবাড়ির এক প্রভাবশালী জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আবদুল হামিদ চৌধুরী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের স্পীকার। তাঁর সন্তান আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার পরবর্তীতে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
আবু সাঈদ চৌধুরী শিক্ষাজীবনে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ইংল্যান্ডের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার হিসেবে উত্তীর্ণ হন। ১৯৪৭ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইনপেশা শুরু করলেও দেশভাগের পর ঢাকায় চলে আসেন এবং ১৯৪৮ সালে ঢাকা হাইকোর্টে যোগ দেন।
১৯৬০ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং ১৯৬১ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। এছাড়াও তিনি পাকিস্তানের সাংবিধানিক কমিশনের সদস্য ও বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালে জেনেভায় অবস্থানকালে তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে উপাচার্যের পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে লন্ডনে গিয়ে কাজ করেন।
স্বাধীনতার পর তিনি দেশে ফিরে এসে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৩ সালের ১০ এপ্রিল পুনরায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সে বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করে বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের ৮ আগস্ট তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় বন্দর ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করেছেন। ১৯৮৫ সালে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে।
এই মহান দেশপ্রেমিক ১৯৮৭ সালের ২ আগস্ট লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক আলোকবর্তিকা, যিনি আইন, শিক্ষা, কূটনীতি ও মানবাধিকারে রেখে গেছেন অবিস্মরণীয় অবদান।
শ্রদ্ধাঞ্জলি এই মহান ব্যক্তির প্রতি।
খবরওয়ালা/এমএজেড