খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকারের “ক্যাঙারু কোর্ট” বা “শো-ট্রায়াল” কি শুধু একজন নেত্রীর বিরুদ্ধে, নাকি বিচারিক স্বাধীনতার ওপর আঘাত?
আজ বাংলাদেশ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। যে ভূখণ্ডে আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা উড়িয়েছি, সেখানে আজ আদালতের দরজা খোলা থাকলেও ন্যায়বিচার যেন অনুপস্থিত। রাজনৈতিক প্রতিশোধের এক ভয়ংকর খেলায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, বাংলাদেশের দিনবদলের রুপকার জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন বিচারিক প্রহসন। অনেকেই এটিকে “ক্যাঙারু কোর্ট” বা “শো-ট্রায়াল” হিসেবে দেখছেন—যা বিচারিক ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়।
🔸 অবৈধ সরকারের প্রতিহিংসা ও মামলার অস্বাভাবিক হার।।
স্বঘোষিত,’অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকার’ গত দেড় বছর ধরে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে অস্বাভাবিক হারে মামলা সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ১৬৬ থেকে ২৩৭টি মামলা দায়েরের খবর পাওয়া যায়। সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, এই বিপুল পরিমাণ মামলা সাজানোই প্রমাণ করে—এর উদ্দেশ্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করা।
এই অভিযোগগুলোর অধিকাংশই অস্পষ্ট, পরস্পর-বিরোধী এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই পরিকল্পিত। এমনকি কিছু মামলায় জীবিত মানুষকে “মৃত ভিকটিম” হিসেবে দেখানো হয়েছে—আইনকে এমন নির্মমভাবে কখনো ‘ছুরি’ বানানো হয়নি। দখলদার ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী হয়তো জানে না, মানবতাবিরোধী অপরাধ কী, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড বিচারব্যবস্থার ওপর যে ভয়ংকর অন্ধকার ছায়া ফেলেছে, তা স্পষ্টতই বিচারিক স্বাধীনতার চরম লংঘন।
🔸 জননেত্রী শেখ হাসিনার অর্জন: ইতিহাসের সাক্ষ্য।।
যাঁর বিরুদ্ধে আজ এই প্রহসন, তিনি কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা এই ভূখণ্ডের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে তিনি জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন এক নতুন দিগন্ত।
তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশ:
* অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অভাবনীয় সাফল্য লাভ করেছে।
* জীবনযাত্রার মানের অবিশ্বাস্য পরিবর্তন ঘটেছে।
* দারিদ্র্যের হার সুনিপুণভাবে কমে এসেছে।
* নারীর ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত হয়েছে।
* উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন।
* ডিজিটাল ও বৈদ্যুতিক বিপ্লব সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি ছিলেন এই জনপদের সত্যিকারের দিনবদলের রুপকার, যিনি তাঁর পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিরলস কাজ করে গেছেন। আজ সেই নেত্রীর বিরুদ্ধে ‘দখলদার, ফ্যাসিস্ট, অবৈধ ইউনুস সরকার’ যখন ক্যাঙারু কোর্টে রায় দিতে প্রস্তুত, তখন তা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।
🔸 জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাখ্যান।।
এই মিথ্যা ও প্রহসনমূলক বিচারিক রায়কে বাংলাদেশের সচেতন আইনজীবী সমাজ প্রত্যাখ্যান করছে। দেশের আপামর জনগণও তাদের প্রিয় নেত্রীর প্রতি এই অন্যায় মেনে নিতে পারেনি। কারণ তারা জানে, এই বিচারিক প্রক্রিয়া ন্যায়বিচার নয়, এটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের চূড়ান্ত রূপ।
শুধু দেশের ভেতরে নয়, আন্তর্জাতিক মহলও এই ট্রায়ালকে অত্যন্ত সন্দেহের চোখে দেখছে এবং এটিকে “ক্যাঙারু কোর্ট” বা “শো-ট্রায়াল” হিসেবে দেখছে। এই বিচার শুধুমাত্র একজন জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নয়—এটা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র।
🔸 নীরবতা নয়, চাই ন্যায় ও স্বচ্ছ বিচার।।
এই চরম অন্যায় দেখে আজ যারা নীরব, তাদের মনে রাখা উচিত—কাল তাদেরও ন্যায়বিচার পাবার অধিকার ঝুঁকির মুখে পড়বে। ইতিহাসের চাকা ঘুরবেই। অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকারের সব সিদ্ধান্তই অবৈধ ও অসাংবিধানিক। সংবিধান লঙ্ঘনের অপরাধে এই গোষ্ঠীকে খুব শীঘ্রই সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করতে হবে।
আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধ চাই না, আমরা চাই ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া।
জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তোলা আজ সময়ের দাবি—কারণ সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই দেশের পক্ষে দাঁড়ানো। বাংলাদেশের জনগণ এখনো শেখ হাসিনাতেই আস্থা রাখে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
এস এম কামরুজ্জামান সাগর
নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।
১৭/১১/২০২৫