খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সিদ্ধেশ্বরী কলেজে নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষার ডিউটির ভাতা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, অবসরে যাওয়া, বিদেশে থাকা ও ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া তালিকা জমা দিয়ে টাকা তোলা হয়েছে।
গত ৮ আগস্ট রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৩৫টি কক্ষে ২ হাজার ৫২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এই পরীক্ষার পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করে। জনপ্রতি এক ঘণ্টা ডিউটির জন্য নির্ধারিত হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা।
কিন্তু প্রকৃত ডিউটি শেষেও বরাদ্দের টাকা বেঁচে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভুয়া তালিকা জমা দেয়। সেই তালিকায় ছিলেন অবসরে যাওয়া ব্যবস্থাপনা বিভাগের নাতাশা সরকার ও প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের সাবিনা মিতাসহ অন্তত ৫ জন শিক্ষক। বিদেশে থাকা সামন্তি মৃধা ও রাজিয়া হোসেন তিথির নামও তালিকায় ওঠে। ডিউটি না করেও নাম এসেছে ইংরেজি বিভাগের ফাতেমা আমিন, বাংলার ফেরদৌস ভুইয়াসহ অন্তত ৬ জনের। পাশাপাশি ৭ জন শিক্ষকের নাম সম্পূর্ণ ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
শিক্ষকেরা নিজেরাও এ অনিয়ম স্বীকার করেছেন। ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান একেএম গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের তিনজন ইংরেজি বিভাগের ম্যাডাম ওইদিন ডিউটি করেননি, অথচ তাদের নামেও বিল করা হয়েছে। বাংলার ফেরদৌস স্যারের নামও ডিউটি ছাড়া বিলের তালিকায় আছে।’ মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভৌতিক বা অবসরপ্রাপ্তদের নাম দিয়ে লিস্ট করা হয়েছে, আগে আমরা বিষয়টি বুঝতে পারিনি।’
নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ শেখ জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছি, সেভাবেই কাজ করেছি।’ তবে শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন খান দাবি করেন, ‘অতীতেও সব নিয়োগ পরীক্ষায় এভাবে টাকা সমন্বয় করা হয়েছে, আমরা সবাই একইভাবে টাকা পেয়েছি।’
এ অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। কিন্তু যদি বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সচিব জানেন, তবে সেটা মিথ্যা। অধ্যক্ষ মিথ্যা কথা বলছেন।’
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষকদের মধ্যেই বিভক্তি দেখা দেয়। আলোচনা করতে গিয়ে শিক্ষকরা একপর্যায়ে তর্কে জড়িয়ে হাতাহাতিতেও নামেন।
খবরওয়ালা/এন