খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রওশন আলীর বিরুদ্ধে ওঠেছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। সাধারণ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায়, পক্ষপাতিত্বমূলক মামলা গ্রহণসহ বিভিন্ন অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওসি রওশন আলী বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করে অর্থ আদায়ের পর সাধারণ ধারায় মামলা দেন, সংঘর্ষে আহতদের মামলা না নিয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন এবং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জব্দ করা ফসলি জমিতে ব্যবহৃত ট্রাক্টর ছেড়ে দেন।
৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিজয়নগরের চান্দুরা এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন, তার ভগ্নিপতি মো. সালমানসহ চারজনকে আটক করে বিজয়নগর থানা পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, ওসি তাদের কাছে থাকা এক লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা রেখে দেন এবং মারধরের পর ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠান। সাজ্জাদ হোসেন জানান, থানায় নিয়ে চোখ, হাত ও পা বেঁধে তাদের নির্যাতন করা হয়। পুলিশ টাকা ও মুঠোফোন রেখে দেয়, পরে ভিডিও রেকর্ড করে টাকা ফেরতের ‘নাটক’ দেখানো হলেও মাত্র ৫ হাজার টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
১৫ রমজানে উপজেলার ভিটিদাউদপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় রত্না আক্তারের ভাই সোহরাব মিয়ার শরীরে শতাধিক সেলাই ও ভাতিজার পিঠে ৩০টি সেলাই লাগলেও তাদের মামলা নেয়নি পুলিশ। উল্টো প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা রুজু করা হয়।
খাদুরাইল গ্রামের প্রবাসফেরত জয়নাল আবেদীন মুন্সীকে ৪ এপ্রিল ভোররাতে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকার পর জয়নাল অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এরপরও তাকে রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে হরষপুর এলাকা থেকে দুটি ট্রাক্টরসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একইভাবে দ্বিতীয় দফায় তিনটি ট্রাক্টরসহ তিনজনকে আটক করে আরও ৬৭ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন ওসি।
ঈদের দিন সাতগাঁও উত্তরপাড়া গ্রামের শাহীন মিয়াকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। মাথা ও মুখে সেলাই লাগলেও থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি রওশন আলী বলেন, “খাদুরাইলের জয়নাল আবেদীন একজন প্রবাসী ও রিয়াদ আওয়ামী লীগের নেতা। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগ সত্য নয়। অনেক ঘটনা আমার মনেও নেই। স্বার্থের হানি ঘটলে মানুষ নানা অভিযোগ তো করবেই।”
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, “পুলিশের কেউ যদি কোনো অপরাধ বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খবরওয়ালা/এমবি