খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৪ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশজুড়ে এখন নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ মাত্র তিন মাস বাকি। গত দেড় বছরে এই সরকার সব ক্ষেত্রে সফল হয়েছে এমন নয়; সরকারের কিছু সাফল্য আছে, কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে।
তবে শুরু থেকেই কয়েকজন উপদেষ্টাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই কয়েকজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে সরকারকে বিব্রত করেছেন। বিশেষ করে দুজন ছাত্র উপদেষ্টা নানা সময়ে বিতর্কে জড়িত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে এই দুই উপদেষ্টা যে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করতে চাইছেন।
এটি একটি বিপজ্জনক ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। বিতর্কিত উপদেষ্টারা কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করলে শুধুমাত্র সেই রাজনৈতিক দলই নয়, পুরো নির্বাচন ও সরকারই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এতে মনে হবে যে রাজনৈতিক দলটি সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে এবং সরকার নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করেছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য চরম রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে।
কয়েকদিন ধরে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তর্ক চলছে। সরকার এই দুই উপদেষ্টাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে, তবে তারা পদত্যাগ করেননি। একজন উপদেষ্টা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। নির্বাচনের নব্বই দিনেরও কম সময় বাকি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন মাসের কম সময় আগে সরকারকে পুরোপুরি নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে কার্যকর হতে হবে। নির্বাচনের সময় সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো রুটিন কার্যক্রম পালন করা এবং কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া এ সময়ে উচিত নয়। এমনকি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও নির্বাচনের নব্বই দিন আগে সরকার কার্যক্রম সীমিত রাখে। এই সময়ে যদি কোনো উপদেষ্টা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাহলে তার সরকারের দায়িত্ব পালনের নৈতিক অধিকার থাকবে না। যে দলেই তিনি যোগ দেবেন, সেই দল বিতর্কিত হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ২৩। শুরুতে দুজন ছাত্র প্রতিনিধি ছিলেন।
শুরুতে উপদেষ্টা পরিষদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো বড় প্রশ্ন তোলা হয়নি। তবে দুই উপদেষ্টা নানা বিতর্কে জড়িত হন। এক উপদেষ্টা অস্ত্র নিয়ে বিতর্কে জড়ান এবং নিজের এলাকায় অস্বাভাবিক বরাদ্দ ও পিতার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্সের মাধ্যমে সমালোচিত হন। এ ধরনের বিতর্কমূলক কর্মকাণ্ড যে কোনো দলকে ক্ষতি করবে।
অন্য ছাত্র উপদেষ্টা নানা বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সমালোচিত। তিনি মাঝে মাঝে ফেসবুকে মন্তব্য করে বিতর্ক তৈরি করেন, যা সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এই উপদেষ্টাদের বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এই বিতর্কিত উপদেষ্টাদের আশ্রয় না দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন