খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সুন্দরবন ঘেঁষা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় অবস্থিত মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এই সৈকতের এক পাশে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ‘সুন্দরবন’, অন্য পাশে বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলরাশি—এটি একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন। যদিও দীর্ঘদিন যাবত অপার সম্ভাবনাগুলি অবহেলায় পড়েছিল, এখন সময় এসেছে এই জায়গাটিকে পর্যটন শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার।
মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রকৃতির অমলিন ছোঁয়ায় বেড়ে ওঠা এই বেলাভূমি, একসময় অনেকটা অজ্ঞাত ছিল। সুন্দরবনের গা ছমছমে পরিবেশ, ঘন জঙ্গলের সবুজে ঘেরা দৃশ্য, বাঁকা নদী এবং বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী, এসবই দর্শকদের জন্য একটি অপরিসীম আকর্ষণ। পর্যটকরা এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন, যা পুরো অঞ্চলটিকে এক রহস্যময় রাজ্যে পরিণত করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী উপকূলীয় পর্যটন, পর্যটন বাজারের বৃহত্তম অংশ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা সারা বিশ্বের জিডিপির ৫ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানের ৬-৭ শতাংশে অবদান রাখে। এই তথ্যটি মান্দারবাড়িয়ার প্রতি দর্শকদের আগ্রহের দিকে ইঙ্গিত দেয়। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলটি যদি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিকল্পিতভাবে উন্নত করা যায়, তবে তা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবে।
দেশের অন্যান্য উপকূলীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর তুলনায় সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মান্দারবাড়িয়া থেকেও বিপুল আয় সম্ভব। মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ এবং পায়রা বন্দরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের মতো প্রকল্পগুলো দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
মান্দারবাড়িয়ার টেকসই পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি, উপকূলীয় অঞ্চলের বেকারত্ব দূরীকরণে সাহায্য করবে। সৈকতভিত্তিক বিনোদন, ইয়টিং, নটিক্যাল বোটিং, মেরিন কার্যক্রম ইত্যাদি মাধ্যমে এখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত ঘটবে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি, বেসরকারি বিনিয়োগও এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিকভাবে পরিকল্পিত পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে, মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত হয়ে উঠবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস, যা দেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক হবে।
মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত পর্যটন শিল্পে একটি বিশাল সম্ভাবনাময় জায়গা। সঠিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টা এই সৈকতকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সূচনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ এই অঞ্চলের স্বর্ণালী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়ক হতে পারে।
শীত মৌসুম অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বুড়িগোয়ালিনির নীলডুমুর নৌঘাট থেকে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার ইঞ্জিন চালিত নৌকা, স্পিডবোট ও স্টিমার চলাচল করে। তাই মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের জন্য শীতকালই উত্তম।
মান্দারবাড়ী সমুদ্র সৈকত কীভাবে যাওয়া যায়
ঢাকা থেকে সাতক্ষীরার দূরত্ব ২৬৭ কিলোমিটার। ঢাকার গাবতলী, নবীনগর, শ্যামলী, কল্যাণপুর এবং সাভার থেকে পদ্মা সেতু হয়ে সাতক্ষীরা যাবার এসি এবং ননএসি বাস রয়েছে। এদের মধ্যে এসপি গোল্ডেন লাইন, এ কে ট্রাভেলস, গ্রীন লাইন, মামুন এন্টারপ্রাইজ, ঈগল পরিবহণ, সোহাগ পরিবহণ, সৌদিয়া পরিবহণ, সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস এবং শ্যামলী পরিবহণ উল্লেখযোগ্য। মানভেদে এ সমস্ত বাসের টিকেটের জন্য ৬৫০ থেকে ১৩০০ টাকা।
সাতক্ষীরা সদর থেকে বুড়িগোয়ালীনির দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। বুড়িগোয়ালিনির নীলডুমুর নৌঘাট থেকে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার ইঞ্জিনচালিত নৌকা, স্টিমার, স্পিডবোট পাওয়া যায়। স্টিমার ও ইঞ্জিন চালিত নৌকায় সমুদ্র সৈকতে যেতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। স্পিড বোটে মান্দারবাড়িয়া যেতে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।
সাতক্ষীরা রাত্রি যাপনের জন্য বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে এদের মধ্যে হোটেল সংগ্রাম, হোটেল সম্রাট, হোটেল সীমান্ত, মোজাফ্ফর গার্ডেন, হোটেল মোহনা এবং হোটেল উত্তরা-তে ভালো সার্ভিস পাবেন। সাতক্ষীরা জেলা কুল, আম,ওল, মাছ এবং সুন্দরবনের খাঁটি মধুর জন্য বিখ্যাত। এছাড়া সাতক্ষীরা ঘোষ ডেইরির সন্দেশ খেয়ে দেখতে পারেন, সন্দেশের স্বাদ অনেক দিন মুখে লেগে থাকবে।
খবরওয়ালা/জেআর