খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট ২০২৫
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। আগামী বছর (২০২৬ সাল) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আসন সংখ্যা ৯ শতাংশ বাড়িয়ে ২ লাখ ৯৫ হাজার করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সোমবার (০৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও আবাসনের উচ্চ ব্যয় রোধে শিক্ষার্থী ভিসা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। চলতি বছর (২০২৫ সালে) ২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আসন বরাদ্দ ছিল। তবে সরকারের সাম্প্রতিক নীতিমালায় ইতিবাচক ফল পাওয়ায় অতিরিক্ত ২৫ হাজার শিক্ষার্থীকে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষামন্ত্রী জেসন ক্লেয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষাখাত যাতে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় স্বার্থের জন্য সহায়ক হয়, সেই লক্ষ্যেই সরকার নতুন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।’
২০২৩ অর্থবছরে, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী দেশটিতে ফিরে আসে। ওই বছর প্রায় ৬ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভিসা দেয় অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন চীন ও ভারতের শিক্ষার্থীরা।
তবে লাগামহীন বিদেশি শিক্ষার্থী প্রবাহ ঠেকাতে গত বছর ভিসা ফি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ায় দেশটি। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের জন্য কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, ‘সরকার গত ১২ মাসে বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সবার কাছে জনপ্রিয় না হলেও কার্যকর ফল মিলেছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, এখন তা টেকসই পর্যায়ে এসেছে।’
ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন বরাদ্দের দুই-তৃতীয়াংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাবে। বাকি এক-তৃতীয়াংশ দেওয়া হবে ভোকেশনাল ট্রেনিং সেক্টরে। তবে শর্ত হিসেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থানীয় ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিক্ষার্থীদের আরও বেশি আকৃষ্ট করতে পারলে তারা বাড়তি বরাদ্দও পাবে।
জুলিয়ান হিল আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যতের সফট পাওয়ার গড়ার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে মেধাবীদের এনে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করা দরকার।’
চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়া এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দিচ্ছে। লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সরকার এই অঞ্চলের সঙ্গে শিক্ষাখাতে সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় সংগঠন ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘যৌক্তিক’ বলে স্বাগত জানিয়েছে।
সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিউক শিহি বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বহুদিন ধরেই এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রবৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে আসছিল। সরকার সেই আহ্বানে সম্মান জানিয়েছে।’
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিদেশি শিক্ষার্থী নির্ভর দেশ। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষা দেশটির শীর্ষ রপ্তানি সেবা খাত হিসেবে স্থান পায়, যা ৫১ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
সূত্র: রয়টার্স।
খবরওয়ালা/এসআই