খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
রংপুরের পীরগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের পাটগ্রাম আদিবাসীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওবায়দুল মিয়া (২৮) রায়পুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। নির্যাতনের সময় তাঁর শরীরে আগুন দেওয়া হয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওবায়দুল মিয়া বর্তমানে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি ওসমান আলীর ছেলে।
স্বজন ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, পাটগ্রাম আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দা জসেদ মারান্ডির সঙ্গে ওবায়দুলের দীর্ঘদিনের সখ্য ছিল। তারা একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। শনিবার সন্ধ্যায় জসেদের বাড়ির লোকজন ওবায়দুলকে প্রথমে ঘরে আটকে পিটুনি দেয়। পরে তাঁকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রড ও লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। অভিযোগ আছে, একপর্যায়ে তাঁর শরীরে দেশীয় মদজাতীয় তরল পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে কল করলে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওবায়দুলকে উদ্ধার করে। রাতেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার গুরুতরতা বিবেচনা করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ওবায়দুলের ভাই আশরাফুল মিয়া জানান, ‘আমার ভাইয়ের সঙ্গে জসেদ মারান্ডির আগে থেকেই লেনদেন ছিল। শনিবার হাটে গরু কিনতে যাওয়ার কথা বলে ওবায়দুল বাড়ি থেকে বের হয়। জমি বিক্রির টাকাও সঙ্গে ছিল। পরে ওকে ফাঁদে ফেলে পিটিয়ে আগুন দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ওবায়দুলের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন, গরু কেনার টাকা এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জসেদ মারান্ডি বা তাঁর পরিবারের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পুলিশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে তারা পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানায়।
পীরগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। রোববার রাত পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে এবং গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টা শুধুমাত্র সহিংসতা নয়, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।’
খবরওয়ালা/এন