আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্য এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে ‘সংবেদনশীল ও বিপজ্জনক’ অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের আশঙ্কা, এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে একটি বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যেখানে ইসরায়েল, ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা সরাসরি মুখোমুখি হবে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ইয়েমেন ফিলিস্তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ আশরাফ আকারের মতে, হুতিদের সাম্প্রতিক ঘোষণা নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত। তিনি মনে করেন, ইয়েমেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ধরনের হামলা কেবল গাজার যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলকেও ব্যাহত করতে পারে।
লেবানন লেবানন ও সিরিয়ার ওপর ইসরায়েলের হামলা এবং মিসর ও জর্ডানের প্রতি উসকানিমূলক নীতি পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। লেবানিজ লেখক মরতাদা সামাভি বলেন, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য হলো গাজায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং লেবাননে প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করা। এর ফলে লেবাননকে ‘উত্তপ্ত দিনগুলোর’ মুখোমুখি হতে হবে। তার মতে, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পর ইরানও নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি বিস্ফোরিত হতে পারে।
ইরান তেহরানের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ হাদি ইসা দালুল জানান, ইসরায়েল এখনও সরাসরি ইরানের ভেতরে বড় হামলা চালাতে পারেনি। তারা মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন নেটওয়ার্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ওপর নির্ভরশীল। তবে ইরান ইতিমধ্যেই এসব নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দিয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েল একা ইরানের মোকাবিলা করতে পারবে না। গবেষক সালেহ আল-কাজউইনি মনে করেন, ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের জন্য একটি সতর্কবার্তা হলেও ইসরায়েলকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। তাদের মূল লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিকে ভেঙে দেওয়া।
ইরাক বাগদাদের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মুখলিদ আল-দার্বের মতে, ইরাক ইরানপন্থি ফ্রন্টের সবচেয়ে দুর্বল অংশ। যদি ইরাক সক্রিয়ভাবে ইরানকে সমর্থন করে, তাহলে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। এর ফলে ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং সুপ্ত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো পুনরায় সক্রিয় হতে পারে।
জেরুজালেম গবেষক হোসেইন আল-দিক মনে করেন, আসন্ন সংঘাত অতীতের যেকোনো লড়াইয়ের চেয়ে ‘বেশি সহিংস ও নির্ধারক’ হবে। তার দাবি, এই যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইসরায়েলকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে। এখন তাদের কৌশল হলো সব ফ্রন্টে একই অস্ত্রনীতি ব্যবহার করা।
বিশেষজ্ঞরা একমত যে মধ্যপ্রাচ্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে এই যুদ্ধ ঠিক কখন শুরু হবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো প্রতিরোধ শক্তিকে ভেঙে দেওয়া এবং ইরানের লক্ষ্য তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ধরে রাখা। এই পরিস্থিতিতে ইরাক, লেবানন বা সিরিয়ার মতো ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলো সহজেই বড় শক্তির সংঘাতের ময়দানে পরিণত হতে পারে। সামান্য একটি ভুল পদক্ষেপই ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে।
তথ্যসূত্র : শাফাক নিউজ
খবরওয়ালা/টিএসএন