খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
বাঙালির জাতীয় চেতনায় দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ আর নির্ভীক প্রত্যয়ের কথা উঠলেই যে নামটি প্রথম সারিতে জ্বলে ওঠে, তিনি মহান বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু। ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা শুধু বয়সে কনিষ্ঠ বলেই নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃপ্ত প্রতিবাদের এক দীপ্ত প্রতীক হিসেবেও অনন্য।
৩ ডিসেম্বর বাঙালির এই মহান সন্তানের জন্মদিন। অগ্নিযুগের উজ্জ্বল আলোকশিখা ক্ষুদিরামকে আজ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও গভীর আবেগে স্মরণ করছে দেশ।
১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর মেদিনীপুরের খাজুরি থানার মোহবনি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ক্ষুদিরাম। শৈশব থেকেই ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচার তাঁর মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে। মাত্র ষোলো–সতেরো বছর বয়সেই তিনি সশস্ত্র বিপ্লবী দলে যুক্ত হন। তাঁর মন ছিল স্বাধীনতার শপথে দগ্ধ; যেন জন্মই হয়েছিল দেশকে উৎসর্গ করার জন্য।
ব্রিটিশ বিচারক কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে বোমা হামলায় অংশগ্রহণ করার পর তিনি সরকার কর্তৃক ভয়ংকর বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হন। গ্রেপ্তারের পরও ক্ষুদিরামের চোখে ছিল অটুট সাহস। তাঁর মুখে প্রতিধ্বনিত হতো—“বন্দে মাতরম্।” সেটিই ছিল তাঁর শক্তির উৎস।
মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার দিন আদালতে তাঁর হাসিমাখা মুখ পরাধীন জাতির সামনে এক বার্তা ছুড়ে দিয়েছিল—স্বাধীনতার পথ মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বিকশিত হয়।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির দড়িতে দাঁড়িয়েও ক্ষুদিরাম ছিলেন নির্ভীক। দেশের প্রতি তাঁর নিখাদ ভালোবাসা ও আত্মোৎসর্গ তাঁকে চিরদিনের জন্য অমর করেছে। তিনি বাঙালির গর্ব, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের যুগান্তকারী প্রতীক।
আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ক্ষুদিরামের সাহস আমাদের অনুপ্রেরণা, তাঁর আত্মত্যাগ স্বাধীনতার চিরউজ্জ্বল পথপ্রদর্শক।
খবরওয়ালা/টিএসএন