খবর ওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনাবলি মাথায় রেখে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দেশের সব বিমানবন্দরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরগুলোকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেবিচক দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং তাৎক্ষণিক কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিমানবন্দরগুলোর সিসিটিভি ক্যামেরা, ফুট পেট্রোল এবং ভেহিক্যাল পেট্রোল বাড়াতে হবে, পাশাপাশি মনিটরিং ব্যবস্থাও আরও জোরদার করতে হবে।
নির্দেশনায় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেমন:
নিরাপত্তা নীতিমালা বাস্তবায়ন: কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
যাত্রী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ: বিমানবন্দরে শুধু অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জনসাধারণের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
নিরাপত্তা কর্মী উপস্থিতি: বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দলে নিয়োজিত কর্মীদের উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে হবে।
র্যান্ডম তল্লাশি: বিমানবন্দরগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থান পথে র্যান্ডম নিরাপত্তা তল্লাশি চালাতে হবে।
তল্লাশী নিশ্চিত করা: যাত্রী, ক্যাবিন ব্যাগেজ, কার্গো এবং যানবাহনের যথাযথ তল্লাশী করতে হবে।
নিরাপত্তা টহল: বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা এবং সীমানা প্রাচীরের পাশে নিয়মিত নিরাপত্তা টহল পরিচালনা করতে হবে।
নিরাপত্তা সরঞ্জামের পরীক্ষা: নিরাপত্তা সরঞ্জাম যেমন স্ক্যানার, মেটাল ডিটেক্টর, সিসিটিভি ইত্যাদি প্রতিদিন পরীক্ষা করে তাদের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
নিরাপত্তা ব্রিফিং: দায়িত্ব পালনের পূর্বে নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়মিতভাবে ব্রিফিং প্রদান করতে হবে এবং তাদের সতর্ক অবস্থায় রাখতে হবে।
সন্দেহজনক কার্যকলাপের রিপোর্ট: সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
সিসিটিভি মনিটরিং: সিসিটিভি মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
অগ্নি সুরক্ষা: বিমানবন্দরের গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক লাইন এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাসমূহ পরিদর্শনপূর্বক অগ্নি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
অগ্নি সুরক্ষা প্রস্তুতি: বিমানবন্দরের অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তুতি এবং সতর্কতা ২৪/৭ সক্রিয় রাখতে হবে।
এই নির্দেশনার মাধ্যমে, বেবিচক দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এ পদক্ষেপগুলো নিশ্চিত করবে যে, দেশের আকাশপথে নিরাপত্তা অব্যাহত থাকবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।