খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১৩ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ইরানে শতাধিক সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং ছয়জন পরমাণুবিজ্ঞানী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া স্থাপনাগুলো। এমন নিখুঁত হামলা চালানোর পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে ইসরায়েলের দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।
শুক্রবার (১৩ জুন) ইসরায়েলের সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, হামলার আগে ইরানে গোপন অভিযান পরিচালনা করেছিল মোসাদ কমান্ডোরা।
সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, এসব অভিযানের মধ্যে আছে—ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কাছাকাছি খোলা জায়গায় নিখুঁত নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র মোতায়েন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি এবং তেহরানের কাছে একটি অ্যাটাক-ড্রোন ঘাঁটি স্থাপন।
শুক্রবার সকালে ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় আকারে হামলা চালায় ইসরায়েল। দেশটির দাবি, তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার জন্য এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বেশ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের তথ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে আছে তেহরানের মূল ইউরেনিয়াম পরিশোধনকেন্দ্র। তবে ইসরায়েলি হামলায় কি অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েল এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘রাইজিং লায়ন’ (উদীয়মান সিংহ)। তাদের দাবি, এই হামলার লক্ষ্য ইরানের সামরিক কমান্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা। ইতোমধ্যে তেহরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলার প্রস্তুতিতে ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে দেশটি প্রস্তুত।
আগে রেকর্ড করে রাখা ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে এসে পৌঁছেছি।’
তিনি বলেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে নিয়োজিত ইরানের বিজ্ঞানী, দেশটির ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নাতানজ ইউরেনিয়াম পরিশোধনাগার লক্ষ্য করে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।
এই অভিযান বেশ কিছুদিন ধরে চলতে পারে বলে আভাস দেন নেতানিয়াহু।
সূত্র: রয়টার্স
খবরওয়ালা/এসআর