খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে মাঘ ১৪৩২ | ২৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বড় আসর মানেই কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উৎসব নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নীতিগত দ্বন্দ্বেরও প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্রীড়া বয়কটের প্রসঙ্গ। যদিও এটি সমসাময়িক ঘটনা, তবে ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়—ফুটবল বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক গেমস বহুবার বর্জনের মুখে পড়েছে। এসব বয়কট কখনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ, কখনো নীতিগত আপত্তি, আবার কখনো আর্থিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে ঘটেছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস শুরু থেকেই বয়কটের ছাপ বহন করে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি ইউরোপের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দল। আয়োজক নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ক্ষোভ, দীর্ঘ নৌযাত্রার কষ্ট এবং ফিফার সঙ্গে মতবিরোধ—সব মিলিয়ে ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, সুইডেনসহ অনেক দেশ মাঠে নামেনি। পরবর্তী আসরগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকে।
১৯৩৪ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বর্জন করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। আবার ১৯৩৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপ বয়কট করে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে—কারণ, পরপর দুটি আসর ইউরোপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেয়নি।
১৯৫০ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ভারতের বর্জন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। খালি পায়ে খেলার অনুমতি না পাওয়ায় ভারত অংশ নেয়নি, যা পরবর্তীকালে দেশটির বিশ্বকাপ স্বপ্নের পথ প্রায় বন্ধ করে দেয়। একই আসরে আর্থিক সংকটে সরে দাঁড়ায় তুরস্ক।
১৯৬৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার ১৫টি দেশ একযোগে বয়কট করে, কারণ এশিয়া ও আফ্রিকা মিলিয়ে মাত্র একটি দলের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখে ফিফা। এই আন্দোলন পরবর্তীতে বিশ্বকাপে আফ্রিকার কোটা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
অলিম্পিক গেমসেও বয়কটের ইতিহাস দীর্ঘ ও গভীর। ১৯৩৬ বার্লিন অলিম্পিক নাৎসি জার্মানির বর্ণবাদী নীতির প্রতিবাদে বর্জন করে স্পেন। ১৯৫৬ মেলবোর্ন অলিম্পিকে একাধিক আন্তর্জাতিক সংকটের জেরে সাতটি দেশ অংশ নেয়নি।
১৯৭৬ মনট্রিল অলিম্পিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আফ্রিকার ২৮টি দেশ সরে দাঁড়ায়। এরপর ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিক বয়কট করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৬৫টি দেশ—আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের প্রতিবাদে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ১৯৮৪ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক বর্জন করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তাদের মিত্ররা।
| আসর | বছর | বয়কটকারী দেশ/অঞ্চল | প্রধান কারণ |
|---|---|---|---|
| ফুটবল বিশ্বকাপ | ১৯৩০ | ইউরোপের একাধিক দেশ | দূরত্ব ও ফিফার সঙ্গে দ্বন্দ্ব |
| ফুটবল বিশ্বকাপ | ১৯৫০ | ভারত, তুরস্ক | নীতিগত ও আর্থিক সমস্যা |
| ফুটবল বিশ্বকাপ | ১৯৬৬ | আফ্রিকার ১৫ দেশ | অংশগ্রহণ কোটা সংকট |
| অলিম্পিক | ১৯৫৬ | ৭ দেশ | সামরিক ও রাজনৈতিক সংকট |
| অলিম্পিক | ১৯৮০ | ৬৫ দেশ | আফগানিস্তানে আগ্রাসন |
| অলিম্পিক | ১৯৮৪ | ১৪ দেশ | পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া |
ইতিহাস বলছে, ক্রীড়া বয়কট কখনোই কেবল মাঠের সিদ্ধান্ত নয়; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, নীতি ও ন্যায়ের প্রশ্নে এক ধরনের শক্ত বার্তা। তবে একই সঙ্গে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে খেলোয়াড়, সমর্থক এবং ক্রীড়ার সার্বজনীন চেতনার ওপর।