খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বর্তমানে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণে সেখানে দল না পাঠানোর ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই টানাপোড়েনের মাঝে বিসিবির অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলাম আজ বোর্ড ও ক্রিকেটারদের আর্থিক লাভ-ক্ষতি এবং ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা ক্রিকেট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বিসিবির প্রয়াত সভাপতি বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাজমুল ইসলাম জানান, বিশ্বকাপে না খেললেও বিসিবির কোনো সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হবে না। তার মতে, আইসিসি থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক রাজস্ব বা রিভিনিউ শেয়ারিংয়ে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
বিসিবির আর্থিক আয় ও সম্ভাব্য ক্ষতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| আয়ের উৎস | অর্থের পরিমাণ (ডলার) | বাংলাদেশি টাকায় (প্রায়) | মন্তব্য |
| আইসিসি বার্ষিক রাজস্ব | ২০.৪ মিলিয়ন ডলার | ২৪৫ কোটি টাকা | ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে |
| আইসিসি রিজার্ভ মানি | ৪ মিলিয়ন ডলার | ৪৮ কোটি টাকা | প্রতি ৪ বছর অন্তর প্রাপ্য |
| বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ফি | ৫ লাখ ডলার | ৬ কোটি+ টাকা | বিসিবি ইতিমধ্যে বুঝে পেয়েছে |
| সম্ভাব্য প্রাইজমানি | ৭ লাখ ২০ হাজার ডলার+ | ৮.৬ কোটি+ টাকা | বিশ্বকাপ না খেললে এটি হাতছাড়া হবে |
বিসিবির অর্থ কমিটির প্রধান স্বীকার করেছেন যে, বোর্ড আর্থিকভাবে নিরাপদ থাকলেও ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের জন্য নির্ধারিত ম্যাচ ফি এবং টুর্নামেন্ট শেষে প্রাপ্ত প্রাইজমানি থেকে বঞ্চিত হবেন খেলোয়াড়রা। তবে এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বিসিবির আছে কি না—এমন প্রশ্নে নাজমুল ইসলাম বেশ কঠোর ও নেতিবাচক মন্তব্য করেন।
তিনি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি!” তিনি আরও যোগ করেন যে, বড় কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল আজ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য পায়নি। তাই বিশ্বকাপে খেলতে না পেরে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির দায়ভার বিসিবি নেবে না।
নাজমুল ইসলামের এই মন্তব্যে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, বোর্ড যে টাকা আয় করে তা মূলত ক্রিকেটারদের মাঠের পারফরম্যান্স এবং তাদের জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করেই আসে। স্পনসরশিপ বা আইসিসি রাজস্ব—সবকিছুর মূলে রয়েছে ক্রিকেট খেলা। কিন্তু নাজমুল ইসলামের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে এক ধরণের ‘খোঁটা’ দেওয়ার মানসিকতা।
তিনি বোর্ড ও ক্রিকেটারদের সম্পর্ককে শরীর ও হাতের সাথে তুলনা করে বলেন, “বোর্ড না থাকলে ক্রিকেটাররা থাকবে কি না?” তার মতে, বোর্ড ও খেলোয়াড়রা একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও দিনশেষে দেশের স্বার্থ এবং ক্রিকেটারদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়। তবে নিরাপত্তার খাতিরে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা থাকলেও, খেলোয়াড়দের পেছনে করা খরচ নিয়ে এমন মন্তব্য তাঁদের মনোবল ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশের দাবি মেনে ভেন্যু পরিবর্তন করবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই আর্থিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিতর্ক বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এক নতুন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।