খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ঘিরে বিশ্বকাপের আগে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা ও আশার মিশ্র পরিস্থিতি। জাতীয় দলে জায়গা পেতে হলে পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে ফিরতে হবে—এমন কঠোর শর্ত দিয়েছেন ব্রাজিল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর সেই লক্ষ্য পূরণে নেইমারের ক্লাব সান্তোস শুরু করেছে বিস্তৃত পুনর্বাসন ও ম্যাচ-ফেরার বিশেষ পরিকল্পনা।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই নেইমারকে ম্যাচ ফিট করে তুলতে চায় সান্তোস। ক্লাবটি আগামী ১৪টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ১৩টিতে তাকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করেছে, যাতে তার ম্যাচ ফিটনেস ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
তবে শুরুতেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ক্লাব ও চিকিৎসক দল। আগামী বুধবার দক্ষিণ আমেরিকা কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাকে বিশ্রামে রাখা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিনের চোটের পর শরীরকে ধীরে ধীরে ম্যাচের চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই মূল লক্ষ্য।
| প্রতিযোগিতা | মোট ম্যাচ | নেইমারের লক্ষ্য ম্যাচ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ব্রাজিলিয়ান লিগ | একাধিক | প্রায় সব ম্যাচ | ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেস বৃদ্ধি |
| জাতীয় কাপ প্রতিযোগিতা | কয়েকটি | নির্বাচিত ম্যাচ | চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা |
| দক্ষিণ আমেরিকা কাপ | শুরু পর্ব | সীমিত অংশগ্রহণ | প্রথম ম্যাচে বিশ্রাম |
ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, নেইমারের শরীর বর্তমানে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রয়েছে। হাঁটুর পুরোনো চোট আবারও সমস্যার সৃষ্টি করায় তাকে সম্প্রতি একটি ছোট অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য তার শরীরে প্লেটলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে, যা টিস্যু পুনর্গঠন ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
সান্তোসের কোচ কুকা জানিয়েছেন, নেইমার বর্তমানে দিনে দুই বেলা করে বিশেষ অনুশীলন করছেন। এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য হলো তার গতি, শক্তি ও স্ট্যামিনা বাড়ানো। একই সঙ্গে ফিজিওথেরাপি ও চিকিৎসা দল নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।
কোচ কুকার ভাষায়, “আমরা চাই নেইমার ধীরে ধীরে পূর্ণ শক্তিতে ফিরে আসুক। তাই শুরুতে কিছু ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে, যাতে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সে শতভাগ দিতে পারে।”
অন্যদিকে জাতীয় দলের পরিকল্পনাও পরিষ্কার। আগামী মে মাসে প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগে কোচ আনচেলত্তি চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। তবে তার শর্ত অনুযায়ী, নেইমারকে অবশ্যই পুরোপুরি ফিট থাকতে হবে, নইলে দলে জায়গা পাওয়া কঠিন হবে।
নেইমারের ক্যারিয়ারে চোট নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত মাঠে ফিরতে পারেননি। এর পর থেকে একাধিকবার পুনর্বাসন ও অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
সব মিলিয়ে, সান্তোস এখন নেইমারকে কেন্দ্র করে এক ধরনের “মহাপরিকল্পনা” নিয়ে এগোচ্ছে—যেখানে লক্ষ্য একটাই, বিশ্বকাপে তাকে সম্পূর্ণ ফিট অবস্থায় ব্রাজিলের জার্সিতে দেখা। তবে এই পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক পুনর্বাসন ও ম্যাচ খেলার সক্ষমতার ওপর।