খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সোমবার আন্তর্জাতিক তেলবাজারে মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ইরান হরমুজ প্রণালির বন্দরে সীমান্তিক উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলে তেলের মূল্য আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তেলের দাম সহজেই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে।
এদিকে, তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পশ্চিমা শেয়ারবাজারেও পড়েছে। ওয়ালস্ট্রিটের ফিউচার সূচক কমেছে, যা সম্ভাব্য পতনের ইঙ্গিত দেয়। ইউরোপীয় বাজারেও একই ধরণের সংকেত দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে শেয়ারবাজার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আজ এশীয় বাজারে তেলের দাম প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। পরে সামান্য সমন্বয় হয়েছে। প্রতিবেদনের সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৬.৪০ ডলার, যা ৪.৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৬৯.৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৪.৪৩ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি নির্দেশ করে।
| তেলের ধরণ | বর্তমান দাম (ডলার/ব্যারেল) | বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|
| ব্রেন্ট ক্রুড | ৭৬.৪০ | ৪.৮৪ |
| ডব্লিউটিআই ক্রুড | ৬৯.৯৯ | ৪.৪৩ |
হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইউকে মেরিন ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তৃতীয় জাহাজের খুব কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে নাবিকেরা নিরাপদে আছেন।
ইরান সতর্ক করেছে, কোনো জাহাজ যেন প্রণালি অতিক্রম না করে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালির প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির বাইরে নোঙর ফেলেছে।
গত রোববার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো দৈনিক উৎপাদন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া। এমএসটি রিসার্চের প্রধান সাউল কাভনিক জানিয়েছেন, এখনো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েনি, এবং কোনো পক্ষ তেল পরিবহন ও উৎপাদন স্থাপনায় সরাসরি হামলা করেনি।
পশ্চিমা শেয়ারবাজারে সোমবার ফিউচার সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। ওয়ালস্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসডাক কম্পোজিট, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ফিউচার—all প্রায় সমান হারে পতিত। তবে তেল কোম্পানি যেমন এক্সন মবিল ও শেভরনের শেয়ারের আগাম দাম ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপেও একই পরিস্থিতি, যেখানে ইউরোস্টক্স ৫০ সংযুক্ত ফিউচারস ১.৪ শতাংশ কমেছে।
বিভিন্ন বিশ্লেষক মনে করছেন, এই আঞ্চলিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও দাম আরও বেশী বৃদ্ধি পাবে। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের সাময়িক বাজার বন্ধ থাকার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন।
মোটমাট, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।