খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে ২০২৫ সাল নিঃসন্দেহে এক অনন্য মাইলফলক। এত বিস্তৃত সাফল্য, এত বহুমাত্রিক পরিবর্তন এবং এত বৈশ্বিক উন্মাদনা একসঙ্গে খুব কম বছরেই দেখা গেছে। কোভিড-পরবর্তী সময় পেরিয়ে এই বছর যেন বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল উৎসব হয়ে উঠেছিল। লাইভ কনসার্ট, ওয়ার্ল্ড ট্যুর, নতুন গান–অ্যালবাম, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আগ্রাসী উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল বিশ্বসংগীতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বহুদিন।
লাইভ মিউজিকের ক্ষেত্রে ২০২৫ ছিল যুগান্তকারী। বিশ্বের প্রায় সব বড় শিল্পী ও ব্যান্ড দীর্ঘ বিরতির পর আবার বেরিয়ে পড়েন ওয়ার্ল্ড ট্যুরে। ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় একের পর এক কনসার্টে দর্শক উপস্থিতি ভেঙেছে পূর্ববর্তী সব রেকর্ড। এসব কনসার্ট ঘিরে হোটেল, পরিবহন, পর্যটন ও স্থানীয় ব্যবসায় ব্যাপক রাজস্ব তৈরি হয়েছে, যা অনেক দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এই বছরে সবচেয়ে আলোচিত সংগীতসফর ছিল দি উইকেন্ডের ‘আফটার আওয়ারস টিল ডন ট্যুর’। এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় করে এটি সংগীত ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। দর্শকসংখ্যার দিক থেকে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সফর হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে কোল্ডপ্লের ‘মিউজিক অব দ্য স্পেয়ারস ওয়ার্ল্ড ট্যুর’। পাশাপাশি বিয়ন্সের ‘কাউবয় কার্টার ট্যুর’, এড শিরানের ‘ম্যাথমেটিকস ট্যুর’, ডুয়া লিপার ‘র্যাডিক্যাল অপটিমিজম ট্যুর’ এবং ওয়েসিসের ‘লাইভ ২৫ ট্যুর’ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করে।
| শিল্পী/ব্যান্ড | ট্যুরের নাম | বিশেষ অর্জন |
|---|---|---|
| দি উইকেন্ড | After Hours Till Dawn | আয় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে |
| কোল্ডপ্লে | Music of the Spheres | ইতিহাসের অন্যতম বড় দর্শকসংখ্যা |
| বিয়ন্সে | Cowboy Carter Tour | কনসেপ্ট ও ভিজ্যুয়ালে প্রশংসিত |
| এড শিরান | Mathematics Tour | টিকিট বিক্রিতে ধারাবাহিক সাফল্য |
| ডুয়া লিপা | Radical Optimism Tour | তরুণ শ্রোতাদের বিপুল সাড়া |
সংগীতধারার দিক থেকেও ২০২৫ ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর। ইংরেজি গানের পাশাপাশি আফ্রোবিটস, লাতিন পপ ও আরবি পপ বিশ্বব্যাপী মূলধারায় জায়গা করে নেয়। কে-পপের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে। রোজের ‘আপাতে’ আগের বছর প্রকাশ পেলেও ২০২৫ সালজুড়ে এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চার্টে শীর্ষে অবস্থান করে। বিটিএসের সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে আসা কোরিয়ান সংগীতশিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। একই সঙ্গে ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’ সিনেমার সাউন্ডট্র্যাক বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা সৃষ্টি করে। টুমরো এক্স টুগেদার ও এসপা ব্যান্ডও এ বছর বৈশ্বিক পরিচিতি পায়।
ডিজিটাল যুগের মাঝেও ২০২৫ সালে ফিরে এসেছে সিডি ও ভিনাইলের জনপ্রিয়তা। শৌখিন সংগীতপ্রেমীরা আবারও ফিজিক্যাল মাধ্যমে গান শোনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে টেইলর সুইফট, ডেভিড বোয়ি, এড শিরান ও বিলি আইলিশের মতো শিল্পীরা ভিনাইল ও সিডিতে অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। স্ট্রিমিংয়ের দাপটের মধ্যেও অ্যানালগ প্রযুক্তির এই প্রত্যাবর্তন অনেককেই বিস্মিত করেছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল সংগীতাঙ্গনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার। এআই ব্যবহার করে গান লেখা, সুর তৈরি ও মিক্সিং–মাস্টারিং সহজ হয়ে উঠেছে। তবে এর নৈতিকতা, মৌলিকত্ব ও শিল্পীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বছরজুড়ে পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র বিতর্ক চলেছে।