খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের হাতে থাকা সবচেয়ে ভয়ংকর কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। নিচে এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের তালিকা দেওয়া হলো, যা তাদের বিধ্বংসী ক্ষমতা এবং প্রযুক্তির জন্য পরিচিত।
চীনের ডিএফ-41
চীনের তৈরি DF-41 একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM)। এর পাল্লা ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার, যা এটিকে বিশ্বের যেকোনো স্থানে আঘাত হানার সক্ষমতা দেয়। এটি ১০টি পর্যন্ত পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে, যা এটিকে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক করে তোলে।
রাশিয়ার R-36 (Satan)
R-36, যা পশ্চিমা বিশ্বে “Satan” নামে পরিচিত, রাশিয়ার তৈরি একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর বিশাল ধ্বংস ক্ষমতা এবং দীর্ঘ পাল্লার কারণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
আমেরিকার Trident II D5
আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যের হাতে থাকা Trident II D5 একটি সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা ৭,৪০০ কিলোমিটারের বেশি এবং এটি একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে। পানির নিচে থেকে ছোড়ার ক্ষমতার কারণে এটি শত্রুপক্ষের জন্য একটি বড় হুমকি।
আমেরিকার Minuteman III ICBM
আমেরিকার ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই আন্তঃমহাদেশীয় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১৩,০০০ কিলোমিটারের বেশি। এটি আমেরিকার পারমাণবিক প্রতিরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এর নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।
আমেরিকার Tomahawk Cruise Missile
Tomahawk Cruise Missile হলো আমেরিকার একটি অত্যন্ত নির্ভুল ও দীর্ঘ পাল্লার ক্রুজ মিসাইল। এটি প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর নির্ভুলতা এটিকে আধুনিক যুদ্ধের একটি অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
চীনের YJ-18
চীনের YJ-18 একটি অ্যান্টি-শিপ এবং ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল। জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এমন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দ্রুত গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হতে পারে, যা নৌ-যুদ্ধে এটিকে একটি ভয়ংকর অস্ত্র হিসেবে প্রমাণ করে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং সামরিক সক্ষমতার প্রতীক। এদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্ষমতা ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং দেশগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
খবরওয়ালা/এমএজেড