খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। একই সঙ্গে সম্প্রতি শুল্ক বিষয়ক তার দক্ষতা কতটা বেড়েছে তাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার দ্য স্কট জেনিংস রেডিও শোতে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ভারতকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শুল্কযুক্ত দেশ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, তার শুল্ক কৌশল নয়াদিল্লিকে ছাড় দিতে বাধ্য করেছে।
তিনি বলেন, ‘চীন আমাদের শুল্ক দিয়ে মারছে, ভারত আমাদের শুল্ক দিয়ে মারছে এবং ব্রাজিলও আমাদের শুল্ক দিয়ে মারে। আমি তাদের চেয়ে শুল্ক ভালভাবে বুঝতে পেরেছি, আমি বিশ্বের যেকোনো মানুষের চেয়ে শুল্ক ভালভাবে বেশি বুঝতে পেরেছি।’
ট্রাম্প ভারতের দ্বারা ‘বিনা শুল্ক’ চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার দাবি ফের তুলে ধরে বলেন, ‘ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শুল্কযুক্ত দেশ ছিল, এবং আপনি জানেন, তারা আমাকে মার্কিন পণ্যে ধার্যকৃত শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। যদি তাদের ওপর উচ্চ শুল্ক না চাপাতাম, তাহলে তারা কখনই সেই প্রস্তাব দিত না। ফলে আপনার শুল্ক বহাল থাকাই উচিত।’
এর আগে সোমবার তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘তারা (ভারত) সম্প্রতি মার্কিন পণ্যে ধার্যকৃত শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। এই প্রস্তাব আরও অনেক বছর আগে দেওয়া উচিত ছিল।’
ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ককে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘খুব কম লোকই বোঝে, তারা আমাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে পণ্য বিক্রি করে, আমরা তাদের সবচেয়ে বড় ক্লায়েন্ট। কিন্তু তারা আমাদের পণ্য কিনে না, যা এটি সম্পূর্ণ একতরফা সম্পর্ক, এবং এটি বহু দশক ধরে চলে আসছে। কারণ হল ভারত এখন পর্যন্ত আমাদের ওপর এত বেশি শুল্ক আরোপ করেছে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ, এতে ভারতে পণ্য বিক্রি করতে পারি না। এটি সম্পূর্ণ একতরফা বিপর্যয়! এছাড়াও, ভারত তার বেশিরভাগ তেল এবং সামরিক পণ্য রাশিয়া থেকে কিনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে খুব কম।’
প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের পণ্যের ওপর ট্রাম্পের ঘোষিত ৫০ শতাংশ শুল্ক দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। এই নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সদ্য চীন সফরে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই ফের একবার ভারত নিয়ে সরব হলেন ট্রাম্প।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
খবরওয়ালা/শরিফ