খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে জ্বালানি তেল, বা ‘ব্ল্যাক গোল্ড’, একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের রপ্তানি শুধু অর্থনৈতিক আয় নয়, রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেল রপ্তানিতে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ ও ইনভেস্টোপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রপ্তানি পরিমাণ ও আয়ের ভিত্তিতে বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি তেল রপ্তানিকারক দেশ হলো: সৌদি আরব, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
| দেশ | দৈনিক রপ্তানি (মিলিয়ন ব্যারেল) | ২০২৩/২০২৪ উৎপাদন (মিলিয়ন ব্যারেল) | রপ্তানি আয় (বিলিয়ন ডলার) | প্রধান রপ্তানি গন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| সৌদি আরব | ৬.০ | ১১.১৩ | ১৩২ (২০২৩) | এশিয়া, ইউরোপ |
| রাশিয়া | ৪.৫ | ১০.৫ | ১২২ | চীন, ভারত |
| যুক্তরাষ্ট্র | ৪.১ | ১২.২ | ১২৫ | ইউরোপ, এশিয়া |
| কানাডা | ৩.৬ | ৩.৪ | ১০৭ | যুক্তরাষ্ট্র |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | ২.৭ | ৩.২ | ৯৯ | এশিয়া, ইউরোপ |
সৌদি আরব: তেল রপ্তানিতে বিশ্বে শীর্ষে থাকা দেশ। প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশ দেশটির দখলে। ২০২৪ সালে দৈনিক গড়ে ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে।
রাশিয়া: ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিশাল তেল মজুদের কারণে রাশিয়া বিশ্ববাজারে অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রধান রপ্তানি গন্তব্য এখন এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে চীন ও ভারত।
যুক্তরাষ্ট্র: রাশিয়ার বাজার থেকে সরে আসা ইউরোপীয় চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে দেশের রপ্তানি দৈনিক প্রায় ৪.১ মিলিয়ন ব্যারেল।
কানাডা: ‘অয়েল স্যান্ডস’-এর সমৃদ্ধ দেশ। তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি যায় যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২৪ সালে দৈনিক গড়ে ৩.৬ মিলিয়ন ব্যারেল রপ্তানি হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ২০২৪ সালে দৈনিক গড়ে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল রপ্তানি। যদিও দেশটির অর্থনীতি এখন তেলের ওপর কম নির্ভরশীল, তবু জ্বালানি এখনও জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
শীর্ষ পাঁচ দেশের বাইরে ইরাক, ব্রাজিল, নরওয়ে ও নাইজেরিয়া তেল রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে প্রভাব রাখার জন্য এই দেশগুলোর ভূমিকাই আগামী দশকে নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক তেল বাজারের কাঠামো।