খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
উত্তম স্বাস্থ্য মানবজীবনের এক অমূল্য সম্পদ। সুস্থ শরীর এবং মনের অভাব ঘটলে মানুষ তার ব্যক্তিগত, সামাজিক অথবা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে সঠিকভাবে অপারগ হয়। এই কারণে আদিকাল থেকেই চিকিৎসা মানবজীবনের এক অপরিহার্য প্রাথমিক চাহিদা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।
যুগের পর যুগ ধরে মানুষ রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে নানা উপায়ে চেষ্টা চালিয়েছে। আর সুবিন্যস্ত হাসপাতাল পরিচালন ব্যবস্থা চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে এক বিশাল ভূমিকা রেখেছে।
মুসলিম শাসনের সময় বিশ্ব-ইতিহাসের প্রথম সুসংগঠিত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ৭০৭ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ ইবনু আবদুল মালিক হাসপাতালকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। তিনি সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ করেন, তাঁদের বেতন নির্ধারণ করেন, কুষ্ঠরোগী এবং দৃষ্টিহীনদের জন্য বিশেষ সেবা প্রবর্তন করেন এবং রোগীদের জীবনধারণের জন্য ভাতার বন্দোবস্ত করেন। (কিসসাতু উলুমিত তিব্বিয়্যাহ ফিল হাযারাতিল ইসলামিয়্যাহ, রাগিব সারজানি, পৃষ্ঠা: ৭৭)
মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ব্যাপক প্রসার লাভ করে এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠে। কিছু হাসপাতাল ছিল বিশেষ রোগের চিকিৎসার জন্য, আর কিছু ছিল সকল প্রকার রোগের চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত।
বাগদাদ থেকে শুরু করে মাগরিব-আন্দালুস (মরক্কো, তিউনিসিয়া, স্পেন) পর্যন্ত, মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। সেই সময়ে কারাগারের বন্দিদেরও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হতো না। এই হাসপাতালগুলোকে তখন ‘বিমারিস্তান’ নামে ডাকা হতো।
মুসলিম সভ্যতায় বিমারিস্তান মূলত দুই প্রকারের ছিল। প্রথমত, চলন্ত বা ভ্রাম্যমাণ বিমারিস্তান। এগুলো প্রধানত তাঁবু বা অস্থায়ী কাঠামোর মতো তৈরি করা হতো। পরিস্থিতি, প্রয়োজন এবং রোগের ব্যাপকতা অনুসারে রোগীদের চিকিৎসার জন্য এগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো হতো।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, ঔষধপত্র, খাদ্যসামগ্রী, পানীয়, পোশাক এবং প্রধান চিকিৎসক, সহকারী চিকিৎসক, ওষুধ প্রস্তুতকারক ইত্যাদি সহ একটি সম্পূর্ণ ‘চিকিৎসক দল’ দিয়ে ভ্রাম্যমাণ বিমারিস্তানগুলো সুসজ্জিত করা হতো।
এই ধরনের ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম ছিল অনেকটা আধুনিক সময়ের মেডিকেল ক্যাম্পের মতো, যা দুর্গম এলাকার মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করত।
খবরওয়ালা/টিএসএন