খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে পৌষ ১৪৩২ | ৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিপিএল শুরুর ঠিক এক দিন আগে চট্টগ্রাম রয়্যালস যেন এক অচেনা চিত্রে ধরা দিয়েছিল। অর্থাভাবে খেলোয়াড়দের বেতন দিতে না পারায় দলটি মালিকানা থেকে সরে আসে। তারপর দায়িত্বে আসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাধারণ দর্শকের চোখে এলোমেলো ও অস্থিতিশীল মনে হলেও, বর্তমান চট্টগ্রাম রয়্যালস যেন নতুন প্রাণে ফুটে উঠেছে।
টুর্নামেন্টের শুরুতেই মাত্র দুজন বিদেশি ক্রিকেটার নিয়ে মাঠে নামলেও ৪ ম্যাচ শেষে চট্টগ্রাম রয়্যালস পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। তাদের ক্রীড়া-গৌরবের এই পথচলায় রয়েছে তিনটি জয় এবং একটি পরাজয়, ফলে ৬ পয়েন্ট। একই পয়েন্ট আছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সেরও, কিন্তু নেট রান রেটে এগিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম। বিশেষ করে টানা দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও উজ্জীবিত করেছে।
গতকাল সিলেটে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১০ উইকেটে হারানোর পর আজ একই মাঠে চট্টগ্রাম রয়্যালস সিলেট টাইটানসকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে। ১২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করেছে তারা।
দলের ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ও অ্যাডাম রসিংটনের জুটি ছিল মাঠে জয়ের মূল চাবিকাঠি। তারা ৮২ বল খেলে ১১৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। নাঈম ৩৭ বল খেলে ৫২ রানে আউট হলেও রসিংটন অপরাজিত ৭৩ রানে থামেন। উল্লেখযোগ্য, ঢাকার বিপক্ষে এই দুই ওপেনারও ১২৩ রানের জুটি গড়ে জয় নিশ্চিত করেছিলেন।
চট্টগ্রামের বোলাররাও আজ মাঠে ছিলেন অসাধারণ। দলীয় ৩৪ রানের মধ্যে তারা সিলেটের ৫ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষকে বড় স্কোর করার সুযোগই দেননি। শুরুটা করেন মুকিদুল ইসলাম, যিনি ওপেনার মেহেদী হাসান মিরাজকে ৫ রানে আউট করেন। এরপর হজরতউল্লাহ জাজাই, ইথান ব্রুকস ও আফিফ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে দেন। ছন্দে থাকা পারভেজ হোসেন করেন ১৭ রান।
চট্টগ্রামের ১২৬ রানের স্কোরে আজমতউল্লাহ ওমরজাইর ৪১ বলে ৪৪ রানের ইনিংসও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
| দল | ওভার | স্কোর | প্রধান ব্যাটসম্যান | বোলারদের কীর্তি | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|---|
| সিলেট টাইটানস | ২০ | ১২৬/৭ | ওমরজাই ৪৪, পারভেজ ১৭ | মেহেদী ২/১৮, মিরাজ ২/২৪ | ৯ উইকেটে হারা |
| চট্টগ্রাম রয়্যালস | ২০ | ১৩০/১ | নাঈম ৫২, রসিংটন ৭৩* | রাহাতুল ১/২৯ | ৯ উইকেটে জয় |
ম্যাচসেরা: মোহাম্মদ নাঈম
চট্টগ্রামের এই সাফল্য প্রমাণ করে, দল যতটা এলোমেলো মনে হোক না কেন, একজোটভাবে খেললে এবং সঠিক সময়ের অধিকার থাকলে কোনো প্রতিপক্ষই বড় হারাতে পারে।