খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে মাঘ ১৪৩২ | ২১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. রায়হান (২৫) নামের এক দুবাই প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি, ২০২৬) ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী নিজে বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনে। গ্রেফতারকৃত রায়হান উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আবুল বশারের ছেলে। ডিজিটাল মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর সঙ্গে রায়হানের পরিচয় হয়। রায়হান তখন দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত আলাপচারিতা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। দীর্ঘ আট মাস ধরে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। রায়হান ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর রায়হান দুবাই থেকে বাংলাদেশে আসেন। দেশে ফেরার পর তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান এবং কয়েকটি হোটেলে ঘুরতে যান। গত সোমবার রাতে রায়হান ওই কলেজছাত্রীর চাচার বাসায় যান এবং তাঁর পরিবারের কাছে বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। বিয়ের কথা শুনে ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বিশ্বাস করেন। রায়হান ওই রাতে সেখানে রাতযাপনের অনুরোধ করলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি আলাদা কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও আইনি তথ্যাবলি:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযুক্তের নাম | মো. রায়হান (২৫) |
| পেশা ও পরিচয় | দুবাই প্রবাসী; কাচিয়া ইউনিয়ন, বোরহানউদ্দিন। |
| ভুক্তভোগীর পরিচয় | স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী। |
| পরিচয়ের মাধ্যম | ফেসবুক (দীর্ঘ ৮ মাসের সম্পর্ক)। |
| ঘটনার তারিখ | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (সোমবার দিবাগত রাত)। |
| মামলা ও গ্রেফতার | ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (মঙ্গলবার)। |
| আইনি ধারা | বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণচেষ্টা ও নারী নির্যাতন দমন আইন। |
পুলিশ জানায়, গভীর রাতে যখন বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েন, তখন রায়হান কৌশলে কলেজছাত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি ছাত্রীকে জোরাজুরি করেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ছাত্রীর চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে রায়হান কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ওই শিক্ষার্থী পরদিন সকালে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর এজাহার পাওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্তে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই না করে পারিবারিক পর্যায়ে প্রশ্রয় দেওয়া অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।