খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
বীমা খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও পেশাগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বীমা কোম্পানির উপদেষ্টা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সুস্পষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত করতে নতুন প্রবিধানমালা জারি করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। প্রজ্ঞাপনটি গত ৭ জানুয়ারি জারি করা হলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে।
নতুন বিধিমালার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বীমাকারীর উপদেষ্টা নিয়োগ (যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা) প্রবিধানমালা, ২০২৬’। বীমা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৪৮ এবং ধারা ৮১-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এই প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলোর উপদেষ্টা নিয়োগে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রবিধানমালা অনুযায়ী, কোনো বীমাকারী প্রতিষ্ঠান আইডিআরএ’র অনুমোদন নিয়ে নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে। যোগ্যতার ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন পেশাগত পটভূমির দক্ষ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
উপদেষ্টা নিয়োগে গ্রহণযোগ্য যোগ্যতার সংক্ষিপ্ত চিত্র
| যোগ্যতার ধরন | ন্যূনতম অভিজ্ঞতা |
|---|---|
| মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অভিজ্ঞতা | কমপক্ষে ৩ বছর |
| আন্তর্জাতিক স্বীকৃত বীমা/অ্যাকচুয়ারিয়াল সনদ | কমপক্ষে ৩ বছর |
| বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির সনদ | কমপক্ষে ৬ বছর |
| হিসাবরক্ষণ/ফাইন্যান্স পেশাগত সনদ | কমপক্ষে ৬ বছর |
| সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তা (অবসরপ্রাপ্ত) | নির্ধারিত অভিজ্ঞতা |
| বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যাপক | দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা |
| বীমাকারীর সিনিয়র ম্যানেজমেন্টে দায়িত্ব | কমপক্ষে ৬ বছর |
এখানে ‘সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট’ বলতে সিইও বা এমডি, অতিরিক্ত ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিএফও, কোম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার, চিফ রিস্ক অফিসার এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো বোঝানো হয়েছে।
স্বার্থের সংঘাত ও নৈতিক ঝুঁকি এড়াতে প্রবিধানমালায় কঠোর অযোগ্যতার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালকের নিকটাত্মীয়, ঋণখেলাপি, দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তি, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি কিংবা মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধে চার্জশিটভুক্ত কেউ উপদেষ্টা হতে পারবেন না। একই সঙ্গে ব্যাংক, বীমা বা ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পদে থাকা ব্যক্তিরাও এ দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগের যৌক্তিকতা, দায়িত্ব-কর্তব্য, খসড়া চুক্তিপত্র, জীবনবৃত্তান্ত, শিক্ষাগত ও পেশাগত সনদসহ একাধিক কাগজপত্র আইডিআরএ’র কাছে জমা দিতে হবে। উপদেষ্টা পদে সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে একজন উপদেষ্টা সর্বোচ্চ ৭৬ বছর বয়স পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এ পদকে বীমা কোম্পানির স্থায়ী জনবল কাঠামোর অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
উপদেষ্টার পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট বীমাকারীর পরিচালনা পর্ষদ। তবে মোট পারিশ্রমিক কোনো অবস্থাতেই কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীর বেতন-ভাতার চেয়ে বেশি হতে পারবে না। চুক্তির মেয়াদকালে সাধারণত পারিশ্রমিক পরিবর্তন করা যাবে না। উভয় পক্ষ এক মাসের নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে, শর্তসাপেক্ষে পাওনা-দেনা নিষ্পত্তির মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবিধানমালার মাধ্যমে বীমা খাতে উপদেষ্টা নিয়োগে পেশাদারিত্ব বাড়বে এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহক সুরক্ষা ও শিল্পের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।