খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে পৌষ ১৪৩২ | ৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া) আসনের নির্বাচনী মাঠ। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে এক ব্যতিক্রমী ও নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী হলেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা। এদিন কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরতে গিয়ে গায়ের জামা খুলে ভেতরে থাকা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট প্রদর্শন করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জিলানী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রার্থীর বক্তব্য
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে এস এম জিলানী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর জীবনের প্রচণ্ড ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, যে কোনো সময় তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্য বা আশঙ্কা থেকে তিনি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, “আমাদের জীবনের হুমকি আছে—এটা ধ্রুব সত্য। দেখুন, আমি ভেতরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে আছি। জানি না কখন কী হয়। তারপরও আপনাদের পাশে থাকার এবং এই মাটির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার ঝুঁকি আমি নিয়েছি।”
এস এম জিলানীর রাজনৈতিক পথচলা এবং নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা | দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। |
| অংশগ্রহণকৃত নির্বাচন | ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। |
| বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা | ২০১৮ সালে নির্বাচনের সময় কারাগারে বন্দি ছিলেন। |
| মনোনয়ন বাতিল সংক্রান্ত | ২০১৮ সালে প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী স্বাক্ষর করলেও প্রশাসন তা বাতিল করে। |
| বর্তমান নির্বাচনের অবস্থান | গোপালগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। |
সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অভিযোগ
বক্তব্যের বাকি অংশে এস এম জিলানী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিকূলতাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে তিনি নানা দমন-পীড়ন ও ঝুঁকির মধ্যেও এলাকা ছাড়েননি। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, সে সময় তাঁকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল যাতে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করে জমা দিলেও তৎকালীন প্রশাসন সেটি গ্রহণ করেনি এবং তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেই নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা না থাকলে কেন তাঁকে জেলে ভরে রাখা হয়েছিল।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনী পরিবেশ
এই ঘটনার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির স্থানীয় কর্মীরা এই ঘটনাকে প্রার্থীর জীবনের ওপর চরম অনিরাপত্তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীর এই ধরনের অবস্থান এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সভায় স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হবে। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট প্রদর্শন মূলত নির্বাচনী ময়দানে তাঁর ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার এক প্রতীকী প্রতিবাদের রূপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।