খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে পৌষ ১৪৩২ | ৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সংগঠনটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর আগে কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় তারা।
বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশে একটি নোটিশ জারি করে ব্যবসায়ী সমিতি। নোটিশে জানানো হয়, সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। তবে একই দিন বেলা তিনটায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়া হলে বিক্রি পুনরায় শুরু হবে, অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্রি বন্ধ থাকবে।”

এর আগে বুধবার সকালে কমিশন বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় সংগঠনটি। দাবি মানা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজির মূল্য নিয়ে চরম অস্থিরতার মধ্যেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, পরিবেশকরা কমিশনের লাইসেন্সধারী না হওয়ায় আইনগতভাবে তাদের দাবিগুলো সরাসরি বিবেচনার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “দাবি আসতে হবে লাইসেন্সধারী আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে। তারা আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে গণশুনানি আয়োজন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেখানে দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে।”

এদিকে, দেশে এলপিজি খাতে চরম সংকট বিরাজ করছে বলে দাবি করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সংগঠনটির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ২৭টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল হচ্ছে, আর বাকি প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম খান বলেন, “বেশির ভাগ সিলিন্ডার খালি পড়ে থাকায় পরিবেশকদের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারদরে। অনেক কোম্পানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে পরিবেশকরা দেউলিয়া হওয়ার মুখে।”
সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, পরিবেশকদের কমিশন বর্তমান ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করতে হবে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই। বাজারে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ‘কারসাজির’ ফল। বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে জরিমানাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই বিইআরসি এলপিজির মূল্য সমন্বয় করেছে। সংকট নিরসনের পরিবর্তে বাড়তি দাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে এবং ভোক্তা অধিকার অভিযানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে অনেক পরিবেশক ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
তাদের দাবি, পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুনভাবে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে হবে এবং প্রশাসনের মাধ্যমে হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি।