খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিনব্যাপী ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে মোট ২৫৫ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন ‘ভারত-সমর্থিত’ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সদস্য এবং ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। এছাড়া নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন।
জিও নিউজ বুধবার এই তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তানের ১২টি শহর ও জনপদে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) একযোগে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। ওই দিন ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যার ফলে প্রদেশজুড়ে জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
পরবর্তী তিন দিনে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার ও পাসনি এলাকায় ধারা অনুযায়ী হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এই সময়ে নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীর আইএসপিআর মিডিয়া উইং বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামের জঙ্গিরা নারী, শিশু ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে হত্যা করে।
নিম্নের টেবিলে সামগ্রিক নিহত সংখ্যা, আক্রান্ত গ্রুপ এবং স্থান ভিত্তিক বিবরণ দেওয়া হলো:
| মৃতের শ্রেণি | সংখ্যা | উল্লেখযোগ্য স্থানসমূহ |
|---|---|---|
| বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি | ১৯৭ | কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার, পাসনি |
| পাকিস্তানি সেনা | ২২ | সমগ্র প্রদেশজুড়ে বিভিন্ন নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও অপারেশন এলাকা |
| বেসামরিক নাগরিক | ৩৬ | নারী ও শিশুসহ, হামলা ও সহিংসতার এলাকা |
| মোট | ২৫৫ | – |
আইএসপিআর আরও জানায়, প্রথম ধাপে ৯২ জন জঙ্গি নিহত হয়, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনী এই অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের অপচেষ্টা ব্যর্থ করতে সক্ষম হয়। অভিযানের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্যানিটাইজেশন অপারেশন চালানো হয়েছে, যাতে হামলার পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা যায়।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, এই হামলা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত জঙ্গি নেতাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে। ঘটনার সময় তারা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন।
এভাবে প্রমাণিত হলো যে বেলুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসের গভীর শিকড় রয়েছে, যা প্রাদেশিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।