খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নাটোরে আলোচিত চিকিৎসক ডা. এএইচএম আমিরুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হাসপাতালের এক স্টাফ আসাদুল ইসলাম আসাদকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ৬টার দিকে জনসেবা ক্লিনিকে নাটোর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, ঘটনার পর থেকে তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করা হয়। বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় যৌথভাবে কাজ করার একপর্যায়ে হাসপাতালের স্টাফ আসাদকে মূল আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। আসাদ বগুড়ার ধুনট উপজেলার বাসিন্দা। ২০২৪ সালে তিনি এসএসসি পাশ করার পর টিএমএসএস মেডিকেলে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি শুরু করেন। পরে তিন বছর ধরে তিনি নাটোরের জনসেবা ক্লিনিকে ডা. আমিরুল ইসলামের পিএ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, কর্মরত অবস্থায় হাসপাতালের এক নারী স্টাফকে ঘিরে ডা. আমিরুল, ওই নারী ও আসাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। ২৫ আগস্ট ডা. আমিরুল ওই নারী স্টাফ এবং আসাদকে মারধর করে এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। এরপর আসাদ প্রতিশোধ নিতে বগুড়া থেকে একটি বোরকা ও দুটি ছুরি কিনে নাটোরে ফিরে আসেন।
৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় বোরকা পরে আসাদ ডা. আমিরুল ইসলামের চেম্বারের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং খাটের নিচে লুকিয়ে থাকেন। ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে গভীর ঘুমে থাকা ডা. আমিরুলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাকে হত্যা করেন। পরে ভোর সোয়া ৬টার দিকে ক্লিনিক থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে বোরকাটি নদীতে এবং দুটি ছুরি নন্দীগ্রাম এলাকায় ফেলে দেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘প্রযুক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণের পর আসাদকে মূল আসামি হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ডা. আমিরুল ইসলামের পিএ হিসেবে কাজ করায় তার চলাফেরা ও অভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও প্রতিহিংসার জেরেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটান। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিও দিতে রাজি হয়েছেন।’
গত সোমবার নাটোরে জনসেবা ক্লিনিক থেকে ডা. আমিরুল ইসলামের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই ক্লিনিকের মালিক ছিলেন।
খবরওয়ালা/এন